ক্রীড়া প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ জুলাই।। ত্রিপুরার ক্রীড়া পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের রূপ নিতে চলেছে নরসিংগড়ে নবনির্মিত ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আজ, বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (টিসিএ) পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

টিসিএ সভাপতি তপন লোধ, সহ-সভাপতি উপানন্দ দেববর্মা, সচিব সুব্রত দে, কোষাধ্যক্ষ বাসুদেব চক্রবর্তী এবং জেনারেল বডির মেম্বারদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, রাম কৃপাল সিং কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার অধীনে নির্মীয়মাণ এই মেগা প্রকল্পের মোট বরাদ্দ বি.ও.কিউ মূল্য ১৮৫ কোটি ১৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৫৮ টাকা। ইতিমধ্যেই গত ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সামগ্রী সরবরাহ সহ আনুমানিক ১৭৮ কোটি টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট প্রকল্পের সিংহভাগ।সাংবাদিক সম্মেলনে স্টেডিয়ামের কাজের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫১ কোটি টাকার কাজ হয়েছিল, যার মধ্যে চূড়ান্ত ফিনিশিং আইটেমের কাজ ছিল ১১৪ কোটি টাকার এবং লিফট, সেন্ট্রালাইজড এয়ার কন্ডিশন, ফ্লাড লাইট, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের জন্য খরচ হয়েছিল ৩৭ কোটি টাকা।

এরপর গত বছরের জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত আরও প্রায় ২৭ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে মূল বাজেটের মাত্র ৭ কোটি টাকার কাজ বাকি রয়েছে, যার জন্য প্রয়োজনীয় সাব-এজেন্সি নিয়োগ এবং মালপত্র সরবরাহের অর্ডার ইতিমধ্যেই দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আইবিএমএস, এয়ার কন্ডিশনিং, মেইন ও মিডিয়া প্যাভিলিয়নের ছাদ তৈরি, এসিপি, ফলস সিলিং এবং ফায়ার ফাইটিংয়ের মতো ফিনিশিং পর্যায়ের কাজগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ফ্লাড লাইটের জন্য ৬টি হাই-মাস্টের ফাউন্ডেশন তৈরি এবং আলোগুলি মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে, যা খুব দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হবে।নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে টিসিএ-কে দেওয়া কাজের চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইনও আজ স্পষ্ট করা হয়েছে।

আগামী ২০ জুনের মধ্যে জেনারেল স্ট্যান্ড গ্যালারি এবং প্রিমিয়াম সিটিং-টু এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, যার পর এখন আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে মিডিয়া প্যাভিলিয়ন এবং টিভি প্রোডাকশন বিল্ডিংয়ের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা হবে। এরপর আগামী ৩১ আগস্ট-এর মধ্যে স্টেডিয়ামের বাকি সমস্ত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে তা পুরোপুরি প্রস্তুত করে দেওয়া হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টিসিএ-র কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করে রাজ্যবাসীকে একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *