আগরতলা: কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ বলেন অর্গানিক কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে ত্রিপুরা। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ৪৭ হাজার কৃষক অর্গানিক চাষের সঙ্গে যুক্ত। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশের বাজারে পা রাখল রাজ্যের অর্গানিক মধু।
আজ আগরতলার হোটেল পোলো টাওয়ার্সে আয়োজিত International Organic Buyer-Seller Meet-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১,০০০ কেজি অর্গানিক মধুর একটি চালান সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) রপ্তানির জন্য পতাকা নেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং আপেডার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, গ্রিস ও ফিলিপিন্সসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, দেশের কৃষকরাই অন্নদাতা। কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়েই বিভিন্ন স্তরে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই মঞ্চেও একজন কৃষককে মঞ্চে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, এর আগে ত্রিপুরা থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অর্গানিক মধু পাঠানো হলেও বিদেশে রপ্তানি করা হয়নি। এই প্রথমবার একটি এফ পি ও -এর মাধ্যমে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর এবং উদ্যানপালন দপ্তরের সহযোগিতায় আরব আমিরশাহিতে অর্গানিক মধু রপ্তানি করা হচ্ছে।মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে মাত্র প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে অর্গানিক কৃষি চাষ হতো। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬,০০০ হেক্টরে। পাশাপাশি প্রায় ৪৭,০০০ কৃষক অর্গানিক কৃষির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।ত্রিপুরার অর্গানিক কৃষিপণ্যের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমশ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন বিশেষ করে রাজ্যের কুইন আনারস দেশ ও বিদেশে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে। এর পাশাপাশি সবরি কলা, সুগন্ধি লেবু, কাঁঠাল, হলুদ ও আদার মতো পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি পাচ্ছে।রতন লাল নাথ বলেন, ত্রিপুরা এখন প্রকৃত ও সার্টিফায়েড অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করছে। এই কাজে আপেডা এবং কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।তিনি আরও বলেন আমাদের রাজ্যের জিএসডিপি -র প্রায় ৪৮ শতাংশ কৃষি থেকে আসে। কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আজকের অনুষ্ঠানের পর ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে কারিগরি আলোচনা হয়েছে।
দেশ-বিদেশের বহু ক্রেতা আমাদের পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে আপেডা-র সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. তরুণ বাজাজ, কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, IFOAM Organics Asia-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জেনিফার চ্যাং এবং TSOFDA-র মিশন ডিরেক্টর রাজীব দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।
