আগরতলা: ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিপুরায় ৫০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আগরতলার হোটেল পোলো টাওয়ারে ‘ত্রিপুরা ক্লিন এনার্জি রোডম্যাপ’, ‘গ্রিন স্কিলিং প্রোগ্রাম’ এবং ‘TREAT Initiative’-এর কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
মন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্ব বর্তমানে শক্তি ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌরশক্তি, এখন আর শুধুমাত্র বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরাও পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী রাজ্য সরকারের ‘UTSA—Unnayan through Transformative Solar Applications’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, দ্রুত সম্প্রসারিত সৌরশক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।ট্রেডা, ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম -এর সহযোগিতায় উৎস কর্মসূচির আওতায় ‘সূর্যমিত্র’ এবং ‘সোলার পিভি টেকনিশিয়ান’-এর মতো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় (MNRE)-এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি, ত্রিপুরায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)-এর সহায়তায় পরিচালিত কর্মসূচির সঙ্গেও এর সমন্বয় রয়েছে।রতন লাল নাথ জানান, গত কয়েক বছরে পিএমকুসুম , পিএম ডিভাইন , পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনা, পিএম-জনমন, গ্রামীণ বাজার আলোক জ্যোতি পরিকল্পনা, সোলার মাইক্রো-গ্রিড, গ্রিন হাইড্রোজেন, মাইক্রো হাইডেল, হাইড্রো কাইনেটিক্স, পাম্পড স্টোরেজ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং বায়োগ্যাস এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, পরিবার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে পরিচ্ছন্ন শক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় প্রায় ৫৮.৭৬ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। পিএমকুসুম প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে ৯,৪০১টি সৌরচালিত পাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও ১,৭০৯টি পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। এর ফলে প্রায় ১৮,৮০২ একর জমি উপকৃত হচ্ছে।এছাড়া, ১,৩৪১টি গ্রিড-সংযুক্ত কৃষি পাম্পের সৌরীকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪০.৪০ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭৬.৬৫ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
এর ফলে কৃষকরাও পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎপাদক হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।মন্ত্রী আরও জানান, পিএম ডিভাইন এর অধীনে সৌর মাইক্রো-গ্রিডের মাধ্যমে প্রায় ৯,৭৬২টি পরিবার এবং পিএম-জনমন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১,৭০৩টি পরিবার পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ত্রিপুরার বিভিন্ন উদ্যোগ জাতীয় স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন রতন লাল নাথ।
তিনি বলেন , প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। পিএম-কুসুম এর অধীনে সর্বাধিক সংখ্যক সৌর পাম্প স্থাপনের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা সেরা পারফর্মিং রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ২.০৯ মেগাওয়াট সৌর মাইক্রো-গ্রিড প্রকল্পের জন্য ত্রিপুরা স্কচ পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি সিলভার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ লাভ করেছে।বিদ্যুৎ মন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রাজ্যে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। এ
র মধ্যে রয়েছে গ্রিন ভিলেজ গড়ে তোলা, সরকারি ভবন ও আবাসিক বাড়িতে রুফটপ সোলার স্থাপন, গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট, সৌর মাইক্রো-গ্রিড, বিকেন্দ্রীভূত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিনির্ভর জীবিকা প্রকল্প এবং বিভিন্ন অফ-গ্রিড সমাধান।তিনি বলেন এই কারণেই দক্ষতা উন্নয়ন আমাদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। উৎস কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা নয়, তাঁদের সৌরশক্তি ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবেও গড়ে তোলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছে এবং রুফটপ সোলার কর্মসূচি সেই দক্ষতার জন্য বাজার তৈরি করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উৎস কর্মসূচি ‘ত্রিপুরা এনার্জি ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৬ডি ক্লিন এনার্জি রোড ম্যাপ ২০২৫–২০৩৫’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে রুফটপ সোলার, মাইক্রো ও মিনি-গ্রিড, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিনির্ভর জীবিকা প্রকল্পের জন্য দক্ষ সৌর-ফোটোভোলটাইক (PV) কর্মী তৈরিতে এই কর্মসূচি সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ দফতরের সচিব অভিষেক সিং, অর্থ দফতরের সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল, ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের সিইও তরিত কান্তি চাকমা, বিদ্যুৎ নিগমের এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসু, এডিবি বিশেষজ্ঞ জেইমস কোলান্থারাজ-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা।
