আগরতলা।। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গত ৫ জুন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বামুটিয়াস্থিত বেড়িমুড়া স্কুলে এক সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কৃষিজমি সংরক্ষণ, ফসলের সুরক্ষা এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বামুটিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক নয়ন সরকার, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বহু কৃষক।মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন ক্ষেত বাঁচাও অভিযান কর্মসূচি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি।। তিনি বলেন কৃষি শুধু একটা পেশা নয় আমাদের দেশের তথা রাজ্যের এবং গ্রামীণ যে অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সবটাই কিন্তু এই কৃষির উপর নির্ভরশীল।
কৃষিতে যদি উন্নতি না করা যায় তাহলে দেশ কিংবা রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন সেই কারণে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের আয় কিভাবে বাড়ানো যায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে কিভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় তার জন্য সর্বদা চিন্তিত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সময়ে সময়ে বিভিন্ন প্রকারের প্রকল্প হাতে নিয়ে কৃষকদের মান উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য হচ্ছে ভারত বর্ষকে বিশ্বের মধ্যে একটি শস্য ভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের দেশের যে শ্রমশক্তি রয়েছে তার ষাট শতাংশ হচ্ছে কৃষকরা।
এই কৃষকদের উন্নয়ন না হলে রাজ্য এবং দেশেরও উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা পূর্বে যেভাবে কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম বিশেষ করে ইউরিয়া হোক কিংবা এমোনিয়া ফসফেট এতে করে মাটির যে জৈব প্রদান ধীরে ধীরে তা হ্রাস প্রাপ্ত হয়ে আসছিল। মাটির জৈব উপাদান হ্রাস হওয়ার ফলে কৃষি জমিতে উৎপাদনের হার ও কমে এসেছিল। তাই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সারা ভারতে এই খেত বাঁচাও অভিযান কর্মসূচি সূচনা হয়েছে। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যেও এই খেত বাঁচাও অভিযান শুরু হয়েছে।
তার লক্ষ্য একটাই কৃষিজমি রক্ষার গুরুত্ব, আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে ফসল সুরক্ষার বিভিন্ন দিক পাশাপাশি কৃষকদের সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করা । উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।
রাজ্য সরকারের এই ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ কর্মসূচি কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
