আগরতলা: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা আজ শিলংয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব পরিষদের (NEC) ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে আগরতলা-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা, বদরপুর-সবরুম ডাবল লাইন রেল প্রকল্প দ্রুত শুরু করা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যে ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।
এছাড়াও তিনি আগরতলায় একটি আইটি পার্ক স্থাপন এবং ‘প্রাইড অব হিলস’ প্রকল্পের আওতায় ত্রিপুরার জন্য বরাদ্দ বার্ষিক ৩,৪৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে কমপক্ষে ৬,০০০ কোটি টাকা করার দাবি জানান।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, ডোনার (DoNER) মন্ত্রী Jyotiraditya Scindia, প্রতিমন্ত্রী Sukanta Majumdar, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সহযোগিতায় ত্রিপুরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি জানান, গত ছয় বছরে রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP) দ্বিগুণ হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য গত আট বছরে ত্রিপুরা সরকার ৩৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক পুরস্কার অর্জন করেছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে গত এক বছরে ত্রিপুরায় ৩০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার বিনিয়োগ এসেছে এবং ৮ হাজার কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ত্রিপুরা স্টার্টআপ নীতি-২০২৪-এর আওতায় ২০০-রও বেশি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছে।স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতির ফলে রাজ্যের বাইরে রোগী রেফারের সংখ্যা ৮০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি গত চার বছরে এমবিবিএস আসন সংখ্যা ২২৫ থেকে ৫৫০-এ এবং স্নাতকোত্তর আসন সংখ্যা ৮৫ থেকে ১৯৬-এ উন্নীত হয়েছে।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় সড়ক নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি চুরাইবাড়ি-মুগাইকামি, আগরতলা-উদয়পুর এবং উদয়পুর-অমরপুর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান।তিনি আরও বলেন, আগরতলা-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, আগরতলা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় কৈলাসহর বিমানবন্দর চালু, বদরপুর-সবরুম ডাবল লাইন রেল প্রকল্প দ্রুত শুরু, সবরুম পর্যন্ত বৈদ্যুতিক যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা এবং আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত।
এছাড়া আগরতলায় একটি AIIMS প্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যে ৪০ শতাংশ রেয়াত, PM-DevINE প্রকল্পের আওতায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক এবং ওয়ার্ল্ড স্কিল সেন্টার স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশে ত্রিপুরার জন্য কোনও রাজস্ব ঘাটতি অনুদান না থাকায় ‘প্রাইড অব হিলস’ প্রকল্পের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।তিনি আরও জানান, বহিরাগত সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প (EAP)-এর আওতায় অর্থায়নের জন্য ত্রিপুরার সীমা ৪,১৪৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের স্বার্থে এই সীমা ১০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, চ্যালেঞ্জ এবং তার সমাধানের বিষয় তুলে ধরেন।
পাশাপাশি অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরার বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্রও উপস্থাপন করেন।পরবর্তীতে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা, ‘ইস্টার্ন স্টার্টআপ করিডর’ নির্মাণ, ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্রি ট্রেড অথরিটি’ প্রতিষ্ঠা, সীমান্তভিত্তিক ক্লাস্টার কূটনীতি, উত্তর-পূর্ব স্কিলস ইউনিভার্সিটি গঠন, পর্যটন উন্নয়ন, কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন এবং সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনি বহু-রাজ্যভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
