আগরতলা।। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুননগর বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডক্টর বিশাল কুমার, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, কর্পোরেটর জগদীশ দাস সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের কোনও বিকল্প নেই। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই নয়, বিশুদ্ধ বায়ু, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে “এক পেড় মা কে নাম” কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল প্রত্যেক নাগরিককে নিজের মায়ের নামে অন্তত একটি গাছ রোপণ করতে উৎসাহিত করা।
এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হয়। তিনি সকলকে বেশি করে গাছ লাগানোর এবং রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও আলোচনা করেন।পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি পুনরায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
