আগরতলা।। বুধবার মহাকরণে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের এক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গত এক বছরের সাফল্য, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান, প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।মন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে দুধ উৎপাদন বেড়েছে ১৪.৫৯ শতাংশ, ডিম উৎপাদন ৪.১১ শতাংশ এবং মাংস উৎপাদন ৩.২৫ শতাংশ। বর্তমানে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ত্রিপুরা প্রথম স্থানে রয়েছে।তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজ্যের ৫৮৬টি পশু চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লক্ষ পশু-পাখিকে চিকিৎসা ও টিকাকরণ পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা আরও জোরদার করতে ৫০টি নতুন মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট কেনা হয়েছে এবং ১৯৬২ টোল-ফ্রি নম্বরের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজারের বেশি পোল্ট্রি ইউনিট, ২ হাজার ৬৭৮টি হাঁস পালন ইউনিট, ১ হাজার ২৪৪টি শূকর পালন ইউনিট এবং ১ হাজার ২৫৬টি ছাগল পালন ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী আরও জানান, বামুটিয়ায় প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক মিল্ক প্রসেসিং প্ল্যান্ট চালু হয়েছে।
পাশাপাশি নতুন ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ডিসপেনসারি ও সাব-সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিকাঠামোও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে রাজ্যের প্রাণী পালকদের আয় বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরাকে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তোলা।
সুধাংশু দাস)প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা ও নতুন পরিকাঠামো—এই তিনকে সামনে রেখেই আগামী দিনে রাজ্যের পশুপালন খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার।
