আগরতলা: রাজ্যের কৃষকদের আয় বাড়ানোই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষকদের আয় বাড়লে গ্রামের উন্নয়ন হয়। গ্রামের উন্নয়ন হলে রাজ্যের উন্নয়ন এবং রাজ্যের উন্নয়ন হলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হয়। অতীতে কৃষকগণ তাদের কৃষি জমিতে ফসল ফলাতে বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়তেন। কৃষকদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পি এম কিষাণ প্রকল্পের সূচনা করেছেন।
আজ আগরতলার অরুন্ধতিনগরস্থিত ত্রিপুরা স্টেট এগ্রিকালচার রিসার্চ সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির ২৩তম কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এদিন পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে বোতাম টিপে ডিজিট্যালি প্রতিটি রাজ্যের মোট ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা প্রেরণ করেন। এই অনুষ্ঠান অরুন্ধতিনগরস্থিত ত্রিপুরা স্টেট এগ্রিকালচার রিসার্চ সেন্টারেও সরাসরি দেখানো হয়।
এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকগণ হচ্ছেন সমাজের মেরুদন্ড ও অন্নদাতা। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়েও মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার কারিগর। রাজ্যে কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে রাজ্য সরকার ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে। কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের ফলে ৫২৯ কোটি টাকারও বেশি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, কৃষি বিকাশ যোজনা সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রতিটি প্রকল্প সঠিক বাস্তবায়ণের ফলেই আজ কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বেড়েছে এবং কৃষকদের আয় বেড়েছে।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার কৃষি জমির উর্ব্বরতা বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। রাজ্যে এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৫৩ হাজারের বেশি সয়েল হেলথ কার্ড দেওয়া হয়েছে। ২৩৩ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নত কৃষি সামগ্রী কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির মাধ্যমে ২০১৮-১৯ সালে ১ লক্ষ ৫১ হাজারের বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে আজ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের ২ লক্ষ ১৬ হাজারেরও বেশি কৃষক তাদের অ্যাকাউন্টে ৪৩ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার বেশি পেয়ে উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উন্নয়নমূলক কাজ সঠিক পথে চালিত করা যায়। রাজ্যে আজ সুন্দর পরিবেশ তৈরী হয়েছে বলেই দ্রুত গতিতে উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ চলছে। বিকশিত রাজ্য গড়ার মধ্য দিয়েই বিকশিত ভারত গড়ে উঠবে।
আজ এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ সহ উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিধায়ক মিণা রাণী সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জিলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির এগ্রি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানগণ এবং কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় ও কৃষি দপ্তরের আধিকারিকগণ।
