আগরতলা: রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোর অন্যতম ভিত্তি ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ। যার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বেড়েই চলছে। পরিষেবা প্রদানে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি হাসপাতালের সমকক্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা জারি রেখেছে ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ।

               
আজ ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ ও ডা. বি আর আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালের ২১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানের প্রাথমিক পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি রক্তদান শিবির ও কলেজের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং-এ একটি ন্যাচার কাম স্মার্ট লেকচার হলের উদ্বোধন করেন। 

ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের বিবেকানন্দ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের প্রতি নস্টালজিক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ২০০৫ সালে গুটি গুটি পায়ে পথ চলা শুরু করা আজকের এই কলেজ রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার এক অন্যতম ভরসাস্থল। তিনি তাঁর স্মৃতি রোমন্থন করে এই হাসপাতালের প্রাথমিক সময়ের বিস্তারিত চিত্র উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে এবছর জুলাই মাস পর্যন্ত ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের ওপিডিতে প্রায় ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ পরিষেবা গ্রহণ করেছেন। এই হাসপাতালে ৪ হাজার ৮৩১টি মেজর ও ১৮ হাজার ২৯২টি মাইনর অপারেশন করা হয়েছে। ডায়ালাইসিস হয়েছে ২ হাজার ৫৩৬ জনের এবং কলোনোস্কোপি হয়েছে ১২২টি। এই পরিসংখ্যানই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই হাসপাতালের ভূমিকাকে নির্দেশিত করে।
                 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই কলেজে এমবিবিএস-এর ১৫০টি সিট, ১৮টি পিজি কোর্সের সিট রয়েছে। আগামীদিনে এই সিট সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমান রাজ্য সরকারের সময়ে রাজ্যে ডেন্টাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। হোমিওপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজেরও পঠনপাঠন শীঘ্র শুরু হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে এই সরকার। জিবিপি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা পরিকাঠামো গড়ে তোলা, রাজ্যের প্রধান ও জেলা হাসপাতালগুলিতে স্বান্ধ্যকালীন ওপিডি শুরু করা হয়েছে। আগরতলার জেকশন গেট এলাকায় সম্প্রতি চালু করা হয়েছে আগরতলা সিভিল হাসপাতাল। তাছাড়া বেসরকারি স্তরে সৃজা হাসপাতাল ও আমবাসায় বন্ধন গ্রুপের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আইএলএস হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে টার্শিয়ারী চক্ষু হাসপাতাল স্থাপনেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই সকল পদক্ষেপই প্রতিফলিত হয় যে আগামীদিনে রাজ্য স্বাস্থ্য হাবে পরিণত হওয়ার পথে সাবলীল ভাবেই অগ্রসর হচ্ছে।


মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ চিকিৎসা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করছে। কিন্তু এর আরও প্রচার প্রসার প্রয়োজন। কারণ কাজের নিরিখেই যেকোন প্রতিষ্ঠানের গরিমা বৃদ্ধি পায়। রাজ্যের উভয় মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তাররা রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে সুনামের সাথে কাজ করছেন। রাজ্যে নীট পরীক্ষার সফলতার হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এই বছরে অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্কিংএ ১৩১ তম স্থানে রয়েছে। রাজ্য থেকে রেফারেল রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সোসাইটি ফর ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ এর চেয়ারম্যান ডা. প্রমথেশ রায়, মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডা. স্বপন সাহা, বিআর আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ অরিন্দম দত্ত, প্রফেসর ডাঃ এ কে চাকমা, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার ডা. জয়ন্ত পোদ্দার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দ্যা উইংস-২০২৬ নামক কলেজ ম্যাগাজিনের মলাট উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আন্ত:কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *