আগরতলা: সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত যোগা চর্চার প্রয়োজন অপরিসীম। যোগা চর্চার মাধ্যমে শরীরে অনেক উপকার হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও মানুষ যোগার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। যোগার মাধ্যমে অবসাদ দূর এবং কাজ করার অনুপ্রেরণা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

আজ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী মিলনায়তনে রাজ্যভিত্তিক ১২তম আন্তর্জাতিক যোগা দিবসের অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং ন্যাশনাল আয়ুষ মিশনের যৌথ উদ্যোগে আজ রাজ্যে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমাদের সরকার আসার পর গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই জায়গায় যোগা দিবস পালন করছি। আমরা সবাই জানি ২০১৫ সাল থেকে সারা বিশ্বে ২১ জুন দিনটিকে আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এবার আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম বাংলার কলকাতায় যোগা দিবস পালন করছেন। যোগা মানে যোগ। এর মাধ্যমে নিজেকে জানা, নিজেকে চেনা যায়। বহু যুগ ধরেই আমাদের ভারতবর্ষে যোগা চর্চা হয়ে আসছে। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের মুনি ঋষিরা এই যোগা চর্চা করে আসছেন। যোগা সম্পর্কে আজকালকার ছেলেমেয়েদের আরো বোঝা প্রয়োজন। কথিত আছে, দেবাদিদেব মহাদেব হলেন যোগার আদিগুরু। তিনিই সারা বিশ্বের প্রথম যোগ গুরু।

আলোচনায় আমরা সবাই জানি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউনাইটেড ন্যাশন্সের জেনারেল এসেম্বলিতে ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে উদযাপন করার প্রস্তাব রাখেন। এরপর একযোগে প্রায় ১৭৭টি দেশ তাঁর প্রস্তাবকে সমর্থন করে। যা কোনরকম ভোটাভুটি ছাড়া পাস হয়ে যায়। এখন অনেক দেশেই এই আন্তর্জাতিক যোগা দিবস পালন করা হয়। এবারের যোগার থিম হচ্ছে যোগা ফর হেলথি এজিং। মূলত, যারা বয়স্ক ব্যক্তি তারা যাতে যোগা চর্চা করেন সেই উদ্দেশ্যেই এই থিম রাখা হয়েছে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য যোগা চর্চার প্রয়োজন অপরিসীম। আমরা সবাই জানি যোগা চর্চার মাধ্যমে শরীর ও মনকে মজবুত রাখা যায়। এতে মন শরীর ও প্রকৃতির সঙ্গে একটা সমন্বয় তৈরি হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভারতবর্ষে যুগ যুগ ধরে মুনি ঋষিগণ যোগা ব্যায়াম চর্চা করে আসছেন। যারাই যোগা চর্চা নিয়মিত করেন তাদের মধ্যে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। তাই আমরা কেন যোগা চর্চা করবো না? যদিও আজকালকার ছেলেমেয়েদের মোবাইলে বেশি নজর থাকে। সেক্ষেত্রে যোগা চর্চা করলে অধিক ভালো হবে। সকলের কাছে আমার আবেদন থাকবে যাতে প্রত্যেকে নিয়মিত যোগা চর্চা করেন। নিয়মিত যোগা চর্চা করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এতে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ হয়, শরীরের পেশিও নমনীয় হয়। যোগা চর্চার মাধ্যমে আমাদের শরীরে অনেক উপকার হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায়। ধ্যান ও প্রানায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ থেকেও অনেকটা মুক্ত থাকা যায়। ছাত্রছাত্রীদের মনসংযোগ ঠিক রাখতে যোগা চর্চার খুবই প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখন শুধু ভারতবর্ষে যোগার প্রসার হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক স্তরেও মানুষ যোগার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। সারা পৃথিবীর মধ্যে যোগার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। এজন্য আমি যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি যেভাবে ভারতবর্ষকে মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন, ভারতবর্ষের ইতিহাস, আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পর্কে বুঝানো এবং প্রচার ও প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করছেন। যোগার মাধ্যমে আমাদের অবসাদ দূর হয় এবং কাজ করার অনুপ্রেরণা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে মারণব্যাধি থেকেও নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ত্রিপুরার ছেলেমেয়েরা এখন যোগা সহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ভালো ফল করছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব পি কে চক্রবর্তী, পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। পরে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ যোগা চর্চায় সামিল হন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *