আগরতলা: গত আট বছরে ত্রিপুরা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখেছে। অতীতে যা মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি, সেই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ বর্তমানে রাজ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

সোমবার এই কথা বলেন বিদ্যুৎ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

এদিন উনকোটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মন্ত্রী।

কুমারঘাট কৃষি মহকুমার অন্তর্গত বেতছড়া গ্রামীণ বাজারের উদ্বোধন করা হয়। ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাজারটি স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি ৫ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কুমারঘাট বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এছাড়াও জগন্নাথপুর এলাকায় ১ কোটি ৮৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুসংগঠিত বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়,
প্রায় ২ কোটি ৭৯ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুমারঘাটে কৃষি উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ উপ-অধিকর্তা কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তিনি জানান, রাজ্যে মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

তিনি বলেন একসময় রাজ্যে পাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৮ হাজার। গত কয়েক বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার। আরও প্রায় আড়াই লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে পাইপের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। আগে যেখানে মাত্র ২৪ হাজার বাড়িতে এই সুবিধা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৬ লক্ষ ২২ হাজার।”

কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে যেখানে কৃষকদের গড় মাসিক আয় ছিল ৬ হাজার ৫৮০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৫৯০ টাকা।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে রাজ্যের ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫৭১ জন কৃষক ২৩তম কিস্তি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। এছাড়া কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৭০ জন কৃষক ২ হাজার ৭১১ কোটি ১২ লক্ষ টাকার কৃষিঋণ পেয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় আগে কৃষকদের প্রতি কানি জমির জন্য ২২০ টাকা দিতে হলেও বর্তমানে মাত্র ১০ টাকা দিতে হচ্ছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) রাজ্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি কৃষকের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৭২ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কৃষকদের ৫৪৬ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত আট বছরে ৫০ হাজার ৮৯টি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যার জন্য ২৩৩ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। আগের সরকারের আমলে যেখানে মাত্র ২ হাজার ৬১১টি কৃষি যন্ত্র দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা।

প্রাকৃতিক কৃষির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগে রাজ্যে এই পদ্ধতির চাষ তেমন প্রচলিত ছিল না। বর্তমানে ৪২ হাজার কৃষক ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক কৃষির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যে ৪৬১ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০৪টি বাজার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আগে যেখানে কৃষকদের জন্য কোনও কৃষক বন্ধু কেন্দ্র ছিল না, বর্তমানে রাজ্যে ৩৪টি কৃষক বন্ধু কেন্দ্র রয়েছে। একইভাবে আগে কোনও ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন (FPO) না থাকলেও বর্তমানে ৫৯টি FPO গড়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও তফশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, বিধায়ক ভগবান দাসসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *