আগরতলা: মানবিকতা, সংবেদনশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে সমাজে সম্মান ও স্বীকৃতি দুটোই অর্জন করা সম্ভব। ত্রিপুরা পুলিশকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্য সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আজ আরকে নগরস্থিত টিএসআর দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের সদর কার্যালয়ে নবনিযুক্ত পুলিশ কন্সটেবল (পুরুষ) ৯২তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেডে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ ৪৬৯ জন পুলিশ কনস্টেবল ও একজন টিএসআর রাইফেলম্যান (জিডি) তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে পাসিং আউট করছেন। আজ ত্রিপুরার সমগ্র পুলিশ বাহিনীর জন্য এক গর্বের ও আনন্দের দিন। আমরা সবাই জানি ত্রিপুরা পুলিশের ইতিহাস অনেক পুরনো। রাজ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে সংগঠিত রূপ লাভ করেছে।

ত্রিপুরার রাজারা ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে নিজস্ব প্রশাসনিক ও পুলিশ ব্যবস্থা প্রচলন করেছিলেন। যা পরবর্তীতে ১৯৬৫তে বর্তমান কাঠামোর আত্মপ্রকাশ হয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আগরতলা প্রজ্ঞা ভবনে আমরা ত্রিপুরা পুলিশের ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করি। রাজ্যে তিন দশক ধরে চলা উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসবাদ দমনে অসামান্য সাফল্য লাভের কারণে প্রেসিডেন্ট কালার্স সম্মান লাভ করে ত্রিপুরা পুলিশ। আজ যারা সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন তাদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কর্মীদের উপর সাধারণ মানুষের অনেক। আশা আকাঙ্খা রয়েছে। সুরক্ষার প্রশ্নে ত্রিপুরার মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি প্রদান করছে ত্রিপুরা সরকার। গত বছর ১৩ মে দিনে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা পুলিশের কনস্টেবল পদে ৯৭৫ জন যুবক যুবতীর হাতে নিয়োগ পত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল।

আজ দীর্ঘ ১ বছর ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ ও নিয়মানুবর্তিতা পালন করার পর আজ পাসিং আউট প্যারেডে উপস্থিত হয়েছেন। আমি নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আজ যে ইউনিফর্ম আপনারা পড়েছেন সেটা সাহস, দায়িত্ব, শৃঙ্খলা, সততা ও মানুষের আস্থার প্রতীক। গত ২১ মে ২০২৬ এ কেটিডিএস পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে আমরা ৫১তম ও ৫২তম ব্যাচের পুরুষ মহিলা কনস্টেবলদের পাসিং আউট প্যারেডে আমি উপস্থিত ছিলাম। সেখানে প্যারেডে অংশগ্রহনকারী ৪৭৬ জন কনস্টেবলের মধ্যে ৩১৮ জন মহিলা ছিলেন। পুলিশ বাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ তাদের ক্ষমতায়নে সরকারের আন্তরিক ভূমিকা প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের সরকারও সেই দিশায় কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, একজন পুলিশ কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় আপনারা বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রথম ভরসাস্থল হয়ে উঠেন। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মনে রাখতে হবে মানবিকতা, সংবেদনশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা আপনাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আমি জেনে আনন্দিত যে এখানে শারীরিক প্রশিক্ষণ হচ্ছে, ইন্ডোর ক্লাশের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গল ওয়ারফেয়ার ফিল্ড ক্র্যাফট, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হচ্ছে। এছাড়াও সাইবার ট্রেনিং করানো হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ আপনাদের দায়িত্ব পালনে অনেক সহায়ক হবে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা প্রদানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। রাজ্য সরকারের অনুমোদিত ২১৮ জন সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগের প্রক্রিয়া খুব সহসাই শুরু হবে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ৯১৬ জন কনস্টেবল নিয়োগের অনুমোদন ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।

>

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *