আগরতলা: নারীদের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নারী সংরক্ষণ বিষয়টিও অন্যতম একটা। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মহিলাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন। আর বিরোধীদের বিরোধিতার কারণে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাস করা যায়নি।
আজ রাজ্য বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই বিশেষ অধিবেশনের মূল বিষয়বস্তু ছিল – নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য মোট আসনের ৩৩% অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম শীর্ষক একটি মোশন বিধানসভায় উত্থাপন করেছেন। এজন্য আমি তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমার মনে হয় এই সংশোধনটি ভারতবর্ষের মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে একটি জোরালো পদক্ষেপ।
এবিষয়টি নিয়ে এই সভায় প্রায় সবাই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই প্রস্তাবিত ভারতীয় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলের প্রস্তাবকে সকলে সমর্থন করবেন। আমি ট্রেজারি বেঞ্চ সহ বিরোধী দলনেতা এবং বিরোধী সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আজ বিধানসভায় অনেক সদস্য সদস্যা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে সকলেই গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। যদিও বিরোধীরা বরাবরই সংসদে যখন কোন বিল আনা হয় সেটা নিয়ে বিরোধিতা করে থাকেন। এক্ষেত্রেও সেটার ব্যতিক্রম হয়নি। তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, ডিলিমিটেশন হবে জনসংখ্যার নিরিখে, অঞ্চলের ভিত্তিতে নয়। এক্ষেত্রে দক্ষিণ বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের আসন যে কমে যাবে সেটা নয়। কারণ এটা একটা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। বিরোধীদের পক্ষ থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে তারমধ্যে তথ্যগত অনেক ত্রুটি রয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ এনডিএ’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আসন সংখ্যা না কমার বিষয়টি নিয়ে বারবার আশ্বস্ত করেছেন।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যা যা করার দরকার সেটা সবসময় করে থাকেন বিরোধীরা। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করা। আর সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এখন অনেক কিছু করা যায়। ডাঃ সাহা জানান, ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার যখন কোন বিল আনে তখনই আমরা দেখেছি সবসময় বিরোধিতা করা যেন একটা অভ্যাস হয়ে পড়েছে। যখনই জম্মু কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করা হয়েছিল তখনও বিরোধীরা সেটার বিরোধিতা করেছেন। আজ সেখানে শান্তি বিরাজ করছে। মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে।
রাম মন্দির নির্মাণের সময়েও বিরোধিতা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় সঠিক দিশায় চলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়েও বিরোধিতা করা হয়েছে। আর তিন তালাক প্রথা বাতিলের সময়েও অনেক কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধীরা বিরোধিতা করেছেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারীদের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এরমধ্যে নারী সংরক্ষণ বিষয়টিও অন্যতম একটা। মহিলাদের কল্যাণে অনেক কিছু করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য মহিলাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন সংসদ ভবনে এক বিশেষ অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিলটি পাস হয়। এর মূল উদ্দেশ্য মহিলাদের ৩৩% আসন সংরক্ষণ। পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য এটা আনা হয়েছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই আইন পাস করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ে এই বিলটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিপুল ভোটে পাস করা হয়েছে। এই বিলে বলা হয়েছে এসসি এসটিদের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা থাকবে। যা সংরক্ষণের মধ্যে সংরক্ষণ। প্রতিটি রাজ্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট আসন পাবে।
এদিন এই এই বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে সভায় আলোচনা করেন সরকার পক্ষের মন্ত্রী বিধায়ক থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা সহ অন্যান্য সদস্যগণ।
