আগরতলা: ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আনারসের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ত্রিপুরাকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যেতে কুইন আনারস এক বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
আজ নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ত্রিপুরা গ্লোব্যাল পাইনাপেল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমি এই আনারস উৎসব উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। গতকাল রাতে আমি প্রধানমন্ত্রী প্রেরিত মেসেজ পেয়েছি। এই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা গ্লোব্যাল পাইনাপেল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন উপলক্ষে ত্রিপুরা সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। এই বার্তায় ত্রিপুরার বিখ্যাত কুইন আনারসের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানিয়েছেন এই আনারস উৎসব কৃষক, ব্যবসায়ী, এক্সপোর্টার, রিসার্চার সহ বিভিন্ন অংশের মানুষের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হয়ে উঠবে। এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে জীবিকা সহ নানা সম্ভাবনা উন্মোচন হবে এবং ত্রিপুরা আরো উন্নয়নের দিশায় এগিয়ে যাবে। আর বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আনারস উৎসব উপলক্ষে বিশেষ বার্তা পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের পূর্বোত্তর কোণে এবং বাংলাদেশের তিনদিকের সীমান্ত দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরা একটি সমৃদ্ধ কৃষি ভূমি হিসেবে পরিচিত। ত্রিপুরার জলবায়ুতে কৃষি জাতীয় ফসল বা ফলের মধ্যে আনারসের স্থান এখন দ্বিতীয়। এটা শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, বরং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আর্থিক মুনাফার একটা নিদর্শন। ত্রিপুরায় আনারসের কাহিনী অনেক পুরনো। এই সুস্বাদু আনারস ত্রিপুরার উঁচু নিচু, পাহাড়ি সমতল এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎপাদিত হয়ে থাকে। যুগ যুগ ধরে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় ও কৃষকরা এই আনারস উৎপাদন করে আসছেন। তাদের হাত ধরেই আনারসের উৎপাদন এগিয়ে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, কৃষকদের হাত ধরেই বিখ্যাত কুইন প্রজাতির আনারস আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যেই এখন কুইন আনারসের স্বীকৃতি উপলব্ধ হয়েছে। ত্রিপুরায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হচ্ছে। সেখান থেকে উৎপাদিত আনারসের পরিমাণ প্রায় ১.৭৮ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালের ৭ জুন ত্রিপুরা সরকার আনারসকে 'রাজ্য ফল' হিসেবে ঘোষণা করে। ত্রিপুরার কুইন ও কিউ প্রজাতির আনারস পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়ে থাকে। সারা দেশের মধ্যে ত্রিপুরার কুইন প্রজাতির আনারসের একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে। এই আনারস স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আনারসের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। জি আই ট্যাগ পাওয়ার পর আনারসের ভ্যালু চেইনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮-১৯ সালে দুবাই, কাতার, ওমান ও বাংলাদেশে ৩৩ মেট্রিক টন কুইন ও কিউ প্রজাতির আনারস রপ্তানি করেছে ত্রিপুরা। এছাড়া জার্মানি ও রাশিয়ায় ৭৪ মেট্রিক টন আনারস রপ্তানি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্যে ১৫,৪০০ মেট্রিক টন আনারস বিক্রি করা হয়েছে। ইউরোপের বাজার, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, জার্মানি জি আই ট্যাগ যুক্ত ত্রিপুরার কুইন আনারসে বিশেষ উৎসাহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানেও এর বড় বাজার রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ত্রিপুরার কুইন প্রজাতির আনারসের ব্যাপক কদর রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, ত্রিপুরার আনারস ক্ষেত্র এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে সরকারের নীতি, লজিস্টিক পরিকাঠামো এই ক্ষেত্রকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ত্রিপুরাকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যেতে কুইন আনারস এক বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ডোনার প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকগণ।
