আগরতলা। এডিসি নির্বাচনে ২৪ – ৪ এর বিশাল ব্যবধানে মথা পরাজিত করেছে বিজেপি দলকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিশ্চিতভাবে বিভিন্ন প্রকারের আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই ফলাফল বিশ্লেষণ করবে। তবে আপাত দৃষ্টিতে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বলতে গেলে এটুকু দাবি করতেই হয় এই ফলাফল রাজ্য বিজেপির জন্য ভয়ানক সংকেত।

বিশেষ করে যেহেতু আর দুই বছরের কম সময় পর ত্রিপুরার পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ে এইভাবে বিজেপির গুহারা হেরে যাওয়া নিশ্চিতভাবে কৃষ্ণনগরের জন্য নতুন করে চিন্তার অধ্যায়। যদিও এটা ঘটনা ত্রিপুরা রাজ্যে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসলেও এখনো পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছরে এডিসি এলাকার মধ্যে বিজেপি নিজেদের সংগঠন যে কোন অবস্থাতে বিস্তার করতে পারেনি, এটা কিন্তু এর বড় প্রমাণ।

এবারের নির্বাচনে যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ করে মথা দলকে আক্রমণ করেছেন রাজ্য জুড়েই সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজেপি দলের এই পরাজয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নৈতিক পরাজয় বলে অনেকেই দাবি করছেন। এটা ঘটনা বিজেপি এখনো পর্যন্ত ত্রিপুরাতে কোন বলিষ্ঠ জনজাতি নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে নি। তারপরেও যাদেরকে ভিত্তি করে মানিক সাহারা পাহাড় দখলের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম বিপিন দেববর্মা পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে। হয়তো অনেকেই দাবি করবেন সিপিআইএম এবং কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান সঠিক, তবে সাথে সাথে এই পরিসংখ্যানটা মাথায় রাখতে হবে দেশের এবং রাজ্যের পরিচালক গোষ্ঠী মুখ থুবড়ে পড়েছে।উত্তর থেকে দক্ষিণ, খোয়াই থেকে ধলাই, গোমতী থেকে সিপাহিজলা হয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা, সব জায়গাতে বিজেপি দল হেরে ভুত হয়ে গেছে।

শুধুমাত্র হেরে গেছে বললে ভুল হবে গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের হাতে গোনা দু একটা আসন বাদ দিলে অধিকাংশ আসনে মথার সাথে বিজেপি দলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি। এই সহজ সরল অংকে দাঁড়িয়ে বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে যদি একটু ভাবা যায় তাহলে কিন্তু কোনোভাবেই বিজেপির পক্ষে সমাধান মেলানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজ্যের পাহাড়ের একটা বড়সড়ো অংশ মথা কে বার্তা দিয়েছে বিজেপির সংঘ ছাড়তে হবে।নির্বাচনের এই ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আত্মবিশ্বাসী মথা যদি রাজ্য সরকার থেকে বেরিয়ে যায় এবং আগামী দিনে যদি একলা চলার নীতি গ্রহণ করে তাহলে কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সত্যিকারের অর্থে যে স্টিয়ারিং মথার হাতেই থাকবে এটা কিন্তু আর বলতে দ্বিধা নেই।

তবে আজকের প্রতিবেদনে এটুকু বলিষ্ঠ ভাবে দাবী করা যায় পাহাড়ে শুধুমাত্র মথা ক্ষমতা দখল করলো এমন না , আক্ষরিক অর্থেই বিজেপির শীর্ষ নেতারা এখন চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *