আগরতলা।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন এবং সাংবিধানিক পদে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালন করবে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি।আজ বিজেপি প্রদেশ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়।
অভিষেক দেবরায় বলেন, সাংবিধানিক নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এই উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তা পালন করা হবে। ‘জন সেবা হি প্রভু সেবা’ ভাবনাকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসেবা, জনকল্যাণ এবং সুশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এই অভিযানে।
এই অভিযানের আওতায় মোট ১২টি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।অভিযানের উদ্বোধনী কর্মসূচি ‘আশীর্বাদ বার্তা প্রদীপ’ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গ্রাম, শহর ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে ৬ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ জ্বালানো হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের তৈরি প্রদীপ রেশন দোকান, পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং ভাগ্য মন্দির কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, জগন্নাথ দিঘি, লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘি, মাতাবাড়ি ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, কালীবাড়ি দিঘি, নীরমহল এবং ঊনকোটি কলাক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে।‘মেরে স্বপ্ন কা ভারত’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ৪,৯৪৫টি স্কুলে অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি উন্নত ভারতের ভাবনা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বক্তৃতা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।‘নমঃ সেবা: আনকহি কাহানিয়াঁ’ কর্মসূচির মাধ্যমে পথনাটিকার সাহায্যে বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও জনসেবার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন শিল্পী নিয়ে গঠিত নাট্যদল স্থানীয় ভাষায় স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে পথনাটিকা পরিবেশন করবে।অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘আঙন মিলন সেবা’। এর আওতায় রাজ্যের সব ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ির পরিষেবা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে উপভোক্তা ও অভিভাবকদের জানানো হবে। পাশাপাশি কোথাও কোনও পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে কি না তা চিহ্নিত করে বকেয়া সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
‘সেবা কি কহানি’ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম-কিষাণ এবং পিএম গরিব কল্যাণ যোজনার মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। সরকারি সহায়তা তাঁদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে, সেই বিষয়ও তাঁরা তুলে ধরবেন।অভিষেক দেবরায় বলেন‘সেবা জ্যোতি কলশ যাত্রা’ কর্মসূচির আওতায় সেবার মশাল নিয়ে পদযাত্রার পাশাপাশি সাইকেল ও মোটরসাইকেল রেলি অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ১,১৯৩টি গ্রাম এবং ২১টি শহর ও নগর এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। যুবসমাজের অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ‘
বিকশিত ভারত’-এর ভাবনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে একটি কলশও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে।এছাড়াও দেশ গঠনে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। উদ্ভাবন, সুশাসন এবং জনঅংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিষেক দেবরায় ভারতীয় জনতা পার্টি সকল কার্যকরতাদের এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান
