আগরতলা: ভারতীয় জনতা পার্টি হচ্ছে একটা পরিবার। এই পার্টির নীতি আদর্শকে পাথেয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আর ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তি। তাঁর নীতি ও ভাবাদর্শকে পাথেয় করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

আজ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ কার্যালয়ে দেশপ্রেমিক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির বলিদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি কার্যক্রমে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, পণ্ডিত দীন দয়ালের একাত্ম মানববাদ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার সমাজের অন্তিম স্তর পর্যন্ত মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছে। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তি, একজন সম্মানিত শিক্ষাবিদ যিনি মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। তিনি এই পদ অর্জনকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি হচ্ছে একটা পরিবার।

এই পরিবারের আদর্শ যারা ছিলেন তাদের আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে গেলে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী বলছেন নিউ ইন্ডিয়ার কথা। আর নিউ ইন্ডিয়া গড়ে তুলতে হলে এক একটা রাজ্যকে সেই দিশায় কাজ করতে হবে। বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর দিশায় ত্রিপুরা রাজ্যও এগিয়ে চলছে। ড:শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও একজন সাধারণ মানুষের মতো ছিলেন। তিনি দেশের জন্য, মানুষের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি, পণ্ডিত দীন দয়াল এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবাদর্শ দেখে অনেক মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিতে সামিল হয়েছেন। তাই এখন দেশের প্রায় ২১টি রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার শাসনভার পরিচালনা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় বলেন,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং ত্রিপুরা সরকার কি কি কাজ করছে সে সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। ভারতীয় জনতা পার্টির একটা সুন্দর নীতি আদর্শ রয়েছে। সেই নীতি আদর্শকে পাথেয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির আত্মবলিদান সার্থক হবে এবং যথার্থতা লাভ করবে। তাঁরা আমাদের শিখিয়েছেন যে প্রথমে দেশ, তারপর পার্টি এবং তারপর ব্যক্তি। এই ভাবনা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ভারত কেশরী ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি চাইতেন না যে দেশ ভাগ হোক। প্রথমে তিনি দেশ ভাগের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি ফিরেছে। এরআগে যারা দেশ চালিয়েছিলেন তারা হাত গুটিয়ে বসেছিলেন। আজ সেখানে শান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি মনোজ কান্তি দেবরায়, উত্তর পূর্বের কো অর্ডিনেটর তথা সাংসদ সম্বিত পাত্র, আসাম ত্রিপুরার সংগঠন মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু, ত্রিপুরা প্রদেশের প্রভারী ড. রাজদীপ রায় সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *