আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সমস্ত ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হিংসা ছড়ানোর জন্য কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। খোয়াই জেলা পরিদর্শন ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পর এই কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন গত ১৭ এপ্রিল এডিসি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে কিছু জায়গায় আগুন, হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আর আমাকে ১৮ এপ্রিল একটি নির্বাচনী প্রচারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে যেতে হয়েছিল এবং ১৭ এপ্রিল সমস্ত নেতৃত্ব পশ্চিম, দক্ষিণ এবং খোয়াইয়ের মতো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন। এর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং আমি কলকাতায় রওনা দিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এটি একটা ক্যান্সার রোগের মতো।

১৯৭০ সাল থেকে এসব এমন কিছু নতুন নয়। এসব সিপিএম – কংগ্রেস করছে এবং এখন তিপ্রা মথা করছে। গতকাল এখানে এসে দেখলাম অনেক মানুষ শিবিরে অবস্থান করছেন। আমি শহীদ ভগৎ সিং ক্যাম্পে গিয়েছি, যেখানে প্রায় ৩০০ জনজাতি রয়েছেন। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের আশ্বস্ত করেছি যে যেখানেই ক্ষতি হয়েছে, সরকার এবং দল তা দেখভাল করবে। আমি তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ সন্ধ্যায় তিনি ডিজিপি এবং মুখ্যসচিবের সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমরা এসব হতে দিতে পারি না। এটা ক্যান্সারের মত। ক্যান্সারের কোন সহজ উত্তর নেই, তবে মাঝে মাঝে এর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। এটি একটি রোগ এবং যত ওষুধের প্রয়োজন হয়, আমরা তা দেব। আমরা এমন কিছু হতে দেব না। আজ আমি খোয়াইতে এসে দেখি প্রায় ২৫০ জন দলীয় অফিসে আশ্রয় নিয়েছেন। কিছু বাড়িতে দুবার হামলা হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় বাড়ি ফেরার জন্য লোকেদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমরা এসব কিছুতেই বরদাস্ত করব না।

ডাঃ সাহা বলেন যে একজন মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রী হিসেবে আমরা জনগণকে রক্ষা করা ও নিরাপত্তা দেওয়ার শপথ নিয়েছি এবং আমরা তা করব। আমরা ইতিমধ্যে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছি এবং আরও প্রদান করব। আমরা আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করব—এটা একটা মিশন। এ ধরনের ঘটনা আমরা আর হতে দিতে পারি না। সেজন্য আমরা মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকের সঙ্গে এখানে এসেছি। আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেব এবং কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার শুরু করেছি, আরও গ্রেপ্তার করা হবে।

পরিদর্শন কালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *