আগরতলা: কমিউনিস্টরা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা নানাভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। আগামীতে সিপিএমের ১০টি আসন ছিনিয়ে আনবে ভারতীয় জনতা পার্টি। এর পাশাপাশি আগামীদিনে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হতে হবে বিজেপিকে।
আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ভারতীয় জনতা পার্টির নবনিযুক্ত প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়ের সম্বর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উল্লেখ্য, গতকালই ভারতীয় জনতা পার্টির দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব তরুণ বিধায়ক অভিষেক দেবরায়কে ত্রিপুরা বিজেপির প্রদেশ সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, শৃঙ্খলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে ঠিক দিশায় চলতে হলে শৃঙ্খলা থাকতেই হবে। মানুষের আশা আকাঙ্খা অনুযায়ী কাজ করতে হবে কার্যকর্তাদের। পৃষ্ঠা প্রমুখ ও বুথ প্রেসিডেন্টদের আরো শক্তিশালী করতে হবে। বুথ শক্তিশালী হতে হবে। সরকারের কাজকর্ম সম্পর্কে বুথে বুথে অবগত করতে হবে। এই লেভেলে কাজ করার জন্য আমি নবনিযুক্ত সভাপতির কাছে আহ্বান জানাই। তবেই শুধু ২০২৮ নয়, পরবর্তী সময়েও ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার থাকবে। আর ভারতীয় জনতা পার্টির বিকল্প নেই, হবেও না কোনদিন। কংগ্রেস, সিপিএমকে সবাই দেখে নিয়েছে। কমিউনিস্টদের চেহারা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। ওরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ইউটিউবে এসে উল্টাপাল্টা বলছে অনেকে। নানাভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে এটা কংগ্রেসের পার্টি বা তৃণমূলের পার্টি না, এটা ভারতীয় জনতা পার্টি।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি নবনিযুক্ত সভাপতিকে বলছি যে সিপিএমের যে ১০টি আসন রয়েছে সেগুলি আবার ছিনিয়ে আনবে ভারতীয় জনতা পার্টি। কারণ সারা ভারতবর্ষে যেহেতু সিপিএম মুছে গেছে, সেখানে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। এজন্য স্পেশাল ড্রাইভ দিতে হবে। তাদের কোন অবস্থায় রাখা যাবে না। দেশের জন্য, রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক ওরা। মানুষকে বিভ্রান্ত করা, মিথ্যা কথা বলা এই পার্টির ধর্ম। সেজন্য তাদের ১০টি আসন ছিনিয়ে আনতে হবে আমাদের। বিধানসভার মধ্যেও নানা তাত্বিক কথা বলেন তারা। তাদের জমানায় স্বর্ণ যুগের কথাও বলতেন তারা। তাদেরই সৃষ্টি এই ড্রাগস মাফিয়ারা। এসকল ড্রাগস মাফিয়াদের হাতে হাতকড়া পড়ছে এখন।
সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আগামীদিনে আমাদের সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হতে হবে। সরকার সরকারের কাজ করবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের কাটিং নিয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার সংস্কারমূলক কাজকর্ম নিয়েও খুবই খুশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমরা সবদিক দিয়েই কাজ করছি। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে আমাদের রাজ্য বিভিন্নভাবে কাজ করছে। যে কারণে জিএসডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোয়া ও মিজোরামের পরে সাক্ষরতার দিক দিয়ে দেশের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ত্রিপুরা। এমবিবিএস এর আসন সংখ্যা প্রচুর বেড়েছে রাজ্যে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের আসন সংখ্যা বেড়েছে। ডেন্টাল কলেজ হয়েছে। ফার্মেসি কলেজ, বিএসসি নার্সিং কলেজ হয়েছে রাজ্যে। আমাদের রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির নবনিযুক্ত সভাপতি বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, সদ্য প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রভারী ড. রাজদীপ রায়, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ সহ বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
