আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেন রাজ্যে সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারীদের বিশেষ ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক মানের উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী জীবনের পথ প্রশস্ত করতে নির্দিষ্ট উদ্যোগ ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

                
আজ আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা এবং দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চাকরির অফার লেটার প্রদান এবং মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান কালে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। এই অনুষ্ঠানে সাব্রুমের মনু বনকুলে নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা।

অনুষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের ১৬ জন পুরুষকে ড্রাইভার পদের অফার লেটার দেওয়া হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ১৮০ জন মহিলাকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজনের হাতে চাকরির অফার এবং পাঁচজন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে সেদিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। এছাড়া অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবায় সংযোজিত হচ্ছে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি। বর্তমানে রাজ্যে ৫২টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গর্জি, বক্সনগর এবং ধলাই জেলার গঙ্গানগরে। আরও পাঁচটি জায়গায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে অফার প্রাপকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে যোগদানের অর্থ মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করা।।সেক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। ফায়ার সার্ভিসের সাথে যুক্ত কর্মচারীদের নিজেদের রক্ষা করতে এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করার জন্য সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকা উচিত। রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের বিকল্প স্বাবলম্বী কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পর নারীদের বিভিন্ন স্বাবলম্বী কর্মসংস্থানের সুযোগের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত ২,১৩০ জন মহিলা উপকৃত হয়েছেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের অধিকর্তা তমাল মজুমদার প্রমুখ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *