আগরতলা।। বামপন্থী নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও যোগেন্দ্রনগর আঞ্চলিক অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপি দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাল সিপিআইএম।
মঙ্গলবার সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির কার্যালয় থেকে মিছিল করে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভে সামিল হন। পরে পশ্চিম ত্রিপুরা পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়।সিপিআইএমের অভিযোগ, যোগেন্দ্রনগর আঞ্চলিক অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। মানিক দে-র দাবি, বর্তমানে গোটা রাজ্যে বিজেপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মানুষের সামনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে না পেরে এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে নতুন করে বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের উপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জিরানিয়া মহকুমা সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় বামপন্থী নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের কাছে বিজেপি কোনও সঠিক দিশা দেখাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই বামপন্থীদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
মানিক দে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর কিংবা নেতা-কর্মীদের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে শুভ নয়। তাই পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।সিপিআইএম নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক হিংসা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
