আগরতলা: উন্নয়নের নিরিখে আগামীতে উত্তর পূর্ব জোনে একটা বিশেষ স্থান দখল করবে আগরতলা তথা ত্রিপুরা। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলির দেখভাল ও উন্নয়ন করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
আজ আগরতলার সেন্ট্রাল রোডস্থিত শিববাড়ি চত্বরে শিববাড়ি জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সারা ভারতবর্ষে একটা আস্তিকের পরিবেশ তৈরি করেছেন। একইভাবে ২০১৮ সালের পর আমাদের ত্রিপুরাতেও সেই দিশায় কাজ করছে সরকার। আমরাও ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নে নজর দিয়েছি। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালে বারাণসীতে কাশি বিশ্বনাথ করিডোরের সূচনা করা হয়। প্রসাদ প্রকল্পে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণ করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরে মা সারদা দেবীর মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করা হয়। যা পূর্বতন সরকারের সময় করা হয় নি।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় স্থানগুলির দেখভাল ও উন্নয়ন করা খুবই প্রয়োজন। ধর্মীয় আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে শিববাড়ি জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের উন্নয়নেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমলাসাগরেও কসবেশ্বরী মন্দিরের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এভাবে অনেক জায়গায় পুকুর সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে। আগামীদিনেও এধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একটা পবিত্রতার ভাব চলে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এখন বহু মানুষ বাইরে থেকে আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যে আসেন। পর্যটকও প্রচুর সংখ্যায় আসছেন। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়ন দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন। এবারের দুদিনের ইনভেস্টর সামিটে শুধু ভারতবর্ষ না বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। আমাদের আশা ছিল অন্তত ৫০০ জনের মতো প্রতিনিধি আসবেন। সেই জায়গায় প্রায় ১২০০ এর মতো এসেছেন। এধরনের সফল আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেও খুশি হয়েছেন। আমাদের টার্গেট ছিল এই সামিটে ১ লক্ষ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ আসবে। সেখানে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ মৌ হয়েছে। আগরতলা তথা ত্রিপুরা যেভাবে উন্নয়ন করছে তাতে আগামীতে উত্তর পূর্ব জোনে একটা বিশেষ স্থান দখল করবে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, ত্রিপুরা জল বোর্ডের সিইও মিহির কান্তি গোপ, পুর নিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদ এ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
