আগরতলা।। রাজ্যের পূর্ত দপ্তরকে ঘিরে সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি লিখিত অভিযোগপত্রে পূর্ত দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক রাজীব পালের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রশাসনিক কাজে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রকৌশলীর বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের দাবিও করা হয়েছে। অভিযোগে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, দপ্তরের মন্ত্রীর মতামতকেও নাকি গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।এই অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি একজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহলের একাংশ।

কারণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের স্বার্থে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগপত্রে যা দাবি করা হয়েছে, তা এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।সরকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন অভিযুক্ত আধিকারিক রাজীব পাল এর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই বিগত বাম আমলে পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যের বাসিন্দা হয়েও জাল পিআরটিসি সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে উনার বিরুদ্ধে।

শুধু তাই না দাপ্তরিক কেলেঙ্কারির জন্য তাকে দুইবার ডিপার্টমেন্টাল তদন্তের সামনেও পড়তে হয়েছে এবং ডিমোশনও হয়েছে।এখন নজর থাকবে রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হয় কি না, অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয় কি না, অথবা অভিযোগে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেই দিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তা তখনই অর্থবহ হবে, যখন এমন গুরুতর অভিযোগেরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

বর্তমানে দপ্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারির কার্যালয় কর্মরত রাজিব পালের কেচ্ছা কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে, এখন দেখার বিষয় আদতে কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয় কিনা*

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *