*আগরতলা: ২০২৬ – ২৭ অর্থ বছরের বাজেটে সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন হবে। সত্যিকারের অর্থেই এবার একটা জনমুখী বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। রাজ্যের বর্তমান সরকার সমস্ত কিছু স্বচ্ছতার মাধ্যমে করার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি ত্রিপুরা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়ের পেশ করা প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনা করতে গিয়ে আজ বিধানসভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সভায় তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরা বিধানসভার নবম অধিবেশনে গত ১৬ মার্চ ২০২৬ এ অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় ২০২৬ – ২৭ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছেন। আর আমি এই বাজেটকে পূর্ণ সমর্থন করছি। অনেকদিন পরে এমন একটা সুন্দর বাজেট আমি দেখতে পেয়েছি। বাজেটের মধ্যে একটা আর্থিক শৃঙ্খলা দরকার। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে একটা ছোট রাজ্য ত্রিপুরা। এই জায়গার মধ্যে দাঁড়িয়ে চাহিদার উপর সামঞ্জস্য রেখে বাজেট পেশ করা খুবই কঠিন কাজ। এই সুন্দর বাজেট পেশ করার জন্য আমি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে সামঞ্জস্য রেখে এবারের বাজেট পেশ হয়েছে রাজ্যে।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট কেন্দ্রের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের নিজেদের আত্মনির্ভর হওয়ার বিষয়টি বাজেটে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন হবে। মহিলা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, যুব সম্প্রদায়, জনজাতি তপশিলি জাতি, ওবিসি, সংখ্যালঘু, কর্মচারী, পেনশনার সহ সকলেই এবারের বাজেটে সুফল পাবেন। সত্যিকারের অর্থেই একটা জনমুখী বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। সব শ্রেণীর মানুষের কথা মাথায় রেখে এবারের বাজেট পেশ করেছেন তিনি। কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই নিজের নেতৃত্ব প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ১১তম স্থান থেকে পঞ্চম হয়ে চতুর্থ স্থানে চলে এসেছে। আগামী ২০৩০ এ তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ভারত। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন হলে রাজ্যেরও উন্নয়ন হবে।

সেই দিশায় এবার রাজ্যের বাজেট পেশ হয়েছে। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিও অনেক লাভবান হবে। আগে উত্তর পূর্বাঞ্চলকে নিয়ে কেউ তেমন চিন্তাভাবনা করে নি। আর এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে মানুষের আশা আকাঙ্খা অগ্রাধিকার পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপর অনেক ভরসা রয়েছে মানুষের। যে কারণে ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করি আমরা। আমাদের সরকার সমস্ত কিছু স্বচ্ছতার মাধ্যমে করার চেষ্টা করছে। খুব সুন্দরভাবে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করছি আমরা। আগামীদিনে এর সুফল নিশ্চয় পাওয়া যাবে।

বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থায়ী উন্নয়ন ও বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলছি আমরা। প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের উপর জনগণের বিশ্বাস এসেছে। ত্রিপুরাতেও আমাদের সরকারের উপর মানুষের আস্থা চলে এসেছে। তাই এবারের বাজেটকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানাই। এবারের বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার উন্নয়ন না হলে রাজ্যেরও উন্নয়ন হবে না। বাজেটে কোন প্রকার কর (ট্যাক্স) রাখা হয় নি। ২০২৬ – ২৭ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ২১২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। যা ২০২৫ – ২৬ অর্থ বছরের অনুমিত বাজেটের তুলনায় এবার ৫.৫২% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ২,৪৪১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা ২০২৫ – ২৬ অর্থ বছরের তুলনায় ২৫.২৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্র আমাদের সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন হলে মানুষের বাইরে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। মানুষ সুস্থ থাকলে কাজও করতে পারবে। এতে সাধারণ মানুষ সহ সকলের জন্যও মঙ্গল হবে।

এর পাশাপাশি বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়েও এদিন বিশদে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অর্থমন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায়ের পেশ করা এবারের বাজেটকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *