আগরতলা: সমাজের প্রতি একটি ক্লাবের দায়িত্ববোধ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে পারে। বর্তমানে ক্লাবগুলো রক্তদান, বস্ত্র বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ ছাড়া এলাকার ছোটখাটো সমস্যা সমাধানেও ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আজ অরুন্ধতীনগরে অবস্থিত অরবিন্দ সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজিত রক্তদান শিবিরের উদ্বোধনকালে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উল্লেখ্য, অরবিন্দ সংঘের উদ্যোগে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ঋষি অরবিন্দ ঘোষের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী এবং ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নারীরাও ক্লাবের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যা বর্তমান সময়ে ক্লাবগুলোর ভূমিকার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব নির্দেশ করে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের উপর কোনো প্রভাব না খাটিয়ে ক্লাবের ভেতরের নানা সমস্যা নিরপেক্ষভাবে সমাধানের জন্য ক্লাবগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই ক্লাবের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

রক্তদানের গুরুত্ব প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তদান রক্তদাতা এবং রক্তগ্রহীতার মধ্যে এক ঐশ্বরিক বন্ধন তৈরি করে। রক্তদানের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ধর্ম, জাতি ও শ্রেণিগত বৈষম্যের মনোভাব হ্রাস পায়। মানবতার ওপরে কিছুই নেই। মানুষের প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত মানবতার আসল ধর্ম। মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ রয়েছে। রক্তদান স্ট্রোক এবং বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। বর্তমানে রাজ্যে ১২টি সরকারি এবং ২ টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। সরকার এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের জাগরণ ঘটার পাশাপাশি জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, রাজ্য সরকার আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আগরতলা শহরের পার্কিং সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মীনারানী সরকার, কর্পোরেটর অলক রায়, টিআরটিসি পরিচালন পর্ষদের সদস্য শ্যামল কুমার দেব, ক্লাব সভাপতি শ্যামল কুমার দে এবং সম্পাদক সুপ্রিয় ঘোষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *