আগরতলা: বিশ্রামগঞ্জে ড্রাগস রিহ্যাব সেন্টারের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন করে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ট্রমা সেন্টার প্রায় সব জেলা হাসপাতালে করা হয়েছে। কার্ডিয়াক কেয়ার সেন্টার অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে। আমরা চাই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবদিক দিয়ে আরো শক্তিশালী হোক। বর্তমানে রেফার রোগীর প্রায় ৮০% সংখ্যা কম হয়েছে।
আজ আগরতলায় হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ‘এমিসিজুমাব’-এর সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আগরতলা নার্সিং কলেজ, আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও আইজিএম হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ আমাদের জন্য সত্যিকারের অর্থে একটা বিশেষ দিন। আমি নিজেও হিমোফিলিয়া সোসাইটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলাম। হিমোফিলিয়া রোগীদের জন্য এমিসিজুমাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, কেরালা সহ ইত্যাদি রাজ্য এই কার্যক্রম শুরু করেছে। রাজ্যে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাসকা অভিযান শুরু করা হয়। বর্তমানে যারা ছেলেমেয়ে তারাই আগামী দিনে দেশের ভবিষ্যৎ, সেই কথা মাথায় রেখে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। সহসাই নবম পর্যায়ে এই অভিযান শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওরাল ক্যান্সার, সারভাইবেল ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রাজ্যে বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। পিছিয়ে পড়া ধলাই জেলায় প্রায় সময় জল বাহিত রোগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটত। বর্তমানে ধলাই জেলায় জল বাহিত রোগে আর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে না। প্রত্যন্ত এলাকার কোন মানুষ যেন চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকে নজর রাখা হয়। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো আগের তুলনায় অনেক উন্নত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ডেন্টাল কলেজের পাশে আরেকটা ডেন্টাল বিল্ডিং করা হচ্ছে। আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে মা ও শিশুদের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় ড্রাগ এডিকশন সেন্টার করা হচ্ছে। বহিঃরাজ্যে রোগী রেফারের হার আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন ‘এমিসিজুমাব’ কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আইজিএম হাসপাতালকে নোডাল হাসপাতাল করা হয়েছে।
জেলা হাসপাতালগুলিতেও ‘এমিসিজুমাব’-এর ব্যবস্থা রাখা গেলে মানুষের সুবিধা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে।
যাতে এগুলি পরিষেবার দিক থেকে আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমানে প্রায় সব জেলা হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।
