আগরতলা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত কার্যক্রমকে সাদরে গ্রহণ করেছেন সাধারণ মানুষ। সবাই এটা শোনার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। আজকের কার্যক্রমে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘চৌংপ্রেং’ এর সংরক্ষণ ও প্রসারে সূরজ কুমার দেববর্মার অনন্য উদ্যোগের বিশেষ উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

             
আজ ১৩ প্রতাপগড় মন্ডলের ৫১ নং বুথে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৬ তম পর্ব সম্প্রচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 

                 
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, এই পর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের নানা প্রান্তের অনুপ্রেরণাদায়ী নতুন উদ্যোগ, ক্রীড়াক্ষেত্রে ও অলিম্পিয়াডে দেশের একাধিক সাফল্যের খতিয়ান ও কারুশিল্পে সাধারণ মানুষের অসাধারণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। 

                 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে ফের একবার ত্রিপুরার নাম নিয়েছেন। যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের। ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘চৌংপ্রেং’ এর সংরক্ষণ ও প্রসারে সূরজ কুমার দেববর্মার অনন্য উদ্যোগের বিশেষ উল্লেখ করেছেন। কিছুদিন আগে আমিও নিজে তাঁর বাদ্যযন্ত্র দেখে খুবই খুশি হয়েছিলাম এবং নিজ হাতে তাঁকে রিসা পরিয়ে সম্মানিত করেছিলাম। আমি ভাবতে পারিনি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি মন কি বাত অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করবেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সম্মান পেলেন শ্রী দেববর্মা। মনে হয়েছে এই এই সম্মান তিনি একা পাননি, সারা ত্রিপুরার জাতি জনজাতি সকল অংশের মানুষ এই সম্মান পেয়েছেন। 

                    
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন এই তিন তারবিশিষ্ট বাঁশের বাদ্যযন্ত্রটি ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর সুমধুর সুর সরোদের সুরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেলেও সূরজ কুমার দেববর্মার নিরলস প্রচেষ্টায় আজ ‘চৌংপ্রেং’ আবারও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিতি ও মর্যাদা ফিরে পাচ্ছে।
           ত্রিপুরার এই গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি রাজ্যের মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। 
                  
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি যে মাসের শেষ রবিবার কবে আসবে এবং প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত শুনতে পাবো। আগে রামায়ণ মহাভারত দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষায় থাকতেন। আর এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত অনুষ্ঠান শোনার জন্য সবাই উদগ্রীব হয়ে থাকেন। কারণ এটা কোন পার্টির প্রোগ্রাম নয়। সমস্ত জায়গায় সকল অংশের মানুষ এটা শুনেন। অথচ প্রথম যখন মন কি বাত অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল তখন বিরোধী দলের অনেক নেতৃত্ব বিদ্রূপ করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই কার্যক্রমকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। মানুষ এখন বুঝেন যে কোনটা ভাল কোনটা খারাপ। কিছুদিন আগে এই মন কি বাত নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন - মন কি বাত - এটা আবার কি, কে শুনে? তখন আমি বলেছিলাম যে আপনি আসুন, পরবর্তী মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি আপনাকে নিয়ে যাবো এবং সারা ভারতবর্ষের মানুষ কীভাবে এটা শুনেন। তাদের কাজই হচ্ছে নেতিবাচক প্রচার করা। 
                   
ডাঃ সাহা বলেন, আগে এই প্রতাপগড়ে একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ছিল। আমি আজ মেম্বারশিপ ড্রাইভের জন্য এখানে এসেছি। আর এখন একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে এই জায়গায়। আগে এখানে কত লোক খুন হয়েছেন, কত লোকের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ হয়েছে - তার কোন হিসেব নেই। 
                     
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুবদের প্রতি একটা অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। আগামীদিনে এই যুবরাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাই তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সবসময় একটা আশা আকাঙ্খা রয়েছে। সারা পৃথিবীর মধ্যে কোন রাষ্ট্র প্রধান এভাবে মন কি বাত কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করেন এমন নজির নেই। যেটা আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করছেন। তিনি পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের চাপমুক্ত রাখতে পরীক্ষা পে চর্চা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অথচ বিরোধীরা এখন সেই ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আজকের কার্যক্রমে প্লাস্টিক বর্জনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আমরাও সেই দিশায় কাজ করছি। কিছুদিন আগে আমি এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কারণ এই প্লাস্টিকের কারণে ক্যান্সার সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর আমাদের বর্তমান সরকার চা শিল্পের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *