আগরতলা, ২৯ জুলাই: জুটমিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়।

মন্ত্রী জানান, ১৯৮০ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের মাধ্যমে জুটমিলের যাত্রা শুরু হয় এবং ১৯৮১ সালে সরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এই শিল্প প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি পাটচাষিদের উৎপাদনে উৎসাহিত করা। তবে পরবর্তী সময়ে জুটমিলকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রণজিৎ সিংহরায়ের দাবি, জুটমিলে অনুমোদিত কর্মীসংখ্যা ছিল ৮০৭ জন। কিন্তু পরবর্তীকালে মোট ২,২৫৩ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়, যার ফলে আর্থিক চাপ ক্রমশ বেড়ে যায়।

বর্তমানে জুটমিল সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়বদ্ধতার কারণে রাজ্য সরকারকে প্রায় ২২০ কোটি টাকা বহন করতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান।আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সময় হাইকোর্টের রায় মেনে নেওয়া হলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মধ্যেই বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় আজ রাজ্যকে অনেক বেশি আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল, বিশেষ করে সিপিআই(এম), জুটমিল শ্রমিকদের পরিবার এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, জুটমিলের কর্মীদের ভবিষ্যৎও বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন প্রণজিৎ সিংহরায়। তিনি দাবি করেন, জিতেন চৌধুরী ও শংকর প্রসাদ দত্তের কিছু মন্তব্য অগণিত হিন্দু পরিবারের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

এছাড়াও জুটমিল সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার জুটমিল এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জুটমিল চত্বরে কী কী উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *