আগরতলা: রাজ্যের জনগণের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে চলেছে। বর্তমানে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালগুলির সমস্ত ইউনিটগুলিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোর সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের কোন মানুষকেই যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে না যেতে হয়। বর্তমানে রাজ্যে রেফারেল রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য সেই সংখ্যাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা। রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে উন্নত পরিকাঠামো, দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আরও উন্নত চিকিৎসা পরিসেবার ব্যবস্থা করা রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
আজ আগরতলার গভর্ণমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি ব্লকের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এবং সেন্ট্রাল স্টেরাইল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট (সিএসএসডি) ইউনিটের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সুপার স্পেশালিটি ব্লকের আইসিইউতে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ৯টি করে শয্যা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল ইউনিটগুলিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার লক্ষ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যায়ক্রমে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যে আগরতলা গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ সারা দেশের মধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের ১০টি ভালো সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে আগরতলা গভর্ণমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ যেন স্থান করে নিতে পারে। বর্তমানে সমস্ত হাসপাতালগুলিতে ডিজিট্যাল পরিষেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক হাসপাতালে ডিজিট্যাল পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা গভর্ণমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে মোট ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন আইসিইউ ও সিএসএসডি চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের মানুষের দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং রোগীদের স্বাস্থ্য জনিত নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত হবে। উন্নত চিকিৎসা প্রদানে বর্তমানে ৯টি সুপার স্পেশালিটি ব্লক চালু আছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালের পাশাপাশি জেলা ও মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলিতেও অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জিবিপি হাসপাতালে প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য সুপার স্পেশালিটি ব্লক গড়ে তোলা হচ্ছে। চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে চক্ষু চিকিৎসা হাসপাতাল। চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার পরিধিও রাজ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যে হোমিও, আয়ুর্বেদিক, ডেন্টাল কলেজ চালু রয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে একটি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য আরও বেশি করে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জিবিপি হাসপাতালের ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং তারজন্য একটি আলাদা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। হাসপাতালগুলিতে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে দ্রুত প্রবেশের জন্য বিশেষ করিডোর তৈরি করা হবে। রাজ্যে প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধ যেন সবসময় পাওয়া যায় তারজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন মিনারানী সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, আগরতলা গভর্ণমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তপন মজুমদার ও জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. বিধান গোস্বামী।
