আগরতলা: শিক্ষা আর মানব সেবার একটা উজ্জ্বল কেন্দ্র অর্থাৎ সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হবে চিন্ময় মিশন। রাজ্যের পবিত্র ভূমিতে এই নতুন মন্দিরটি আধ্যাত্মিক আরাধনার একটি নির্দশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটনের গুণগত বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

আজ মোহনপুরে মা সৌন্দরায়া চিন্ময়ী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা ও কুম্ভভিষেকম অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক শ্রদ্ধেয় মোহন ভাগবত এর উপস্থিতিতে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল জিষ্ণু দেববর্মা।

চিন্ময় সেবা ট্রাস্ট, ত্রিপুরার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, মহান ব্যক্তিদের পাশে থাকলে ও সাথে থাকলে অনেক কিছু শেখা যায়। এসবই আমাদের জীবন দর্শন। আজ চিন্ময় মিশন ত্রিপুরার পক্ষ থেকে আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই শুভদিনটি আমাদের আদি শঙ্করাচার্যের জয়ন্তীর পবিত্র তিথি। মন্দিরের প্রতিষ্ঠা ও কুম্ভভিষেকম এর এই মহৎ উদ্যোগ ত্রিপুরার জন্য তো বটেই, সারা ভারতবর্ষ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য একটা বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়। সমস্ত জায়গার মানুষ এখন এখানে দেখতে আসবেন। যেখানে আধ্যাত্মিকতার বিষয় জড়িয়ে আছে। শিক্ষা আর মানব সেবার একটা উজ্জ্বল কেন্দ্র অর্থাৎ সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হবে এটা। আমার কাছে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে এই মন্দিরটি মা ত্রিপুরা সুন্দরীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। আমরা জানি ৫১ শক্তি পীঠের অন্যতম একটা মা ত্রিপুরা সুন্দরী। আমরা সবসময় মাকে স্মরণ করেই যেকোন শুভ কাজ শুরু করি।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়েও আমি এসেছিলাম, ২৭ জুন, ২০২৫। এক বছর পূর্ণ না হতেই এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সময়ের আগেও কাজ শেষ করা যায়। এই মন্দিরের কেন্দ্রে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু একখণ্ড পাথরে তৈরি বিশাল মূর্তি। যা ভক্তদের আকর্ষিত করবে এবং গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে। উন্মুক্ত মনোরম পরিবেশে এই মূর্তিকে ঘিরে রয়েছে শ্রী আদি শংকরাচার্যের রচিত অমর সৌন্দর্য লহরীর শ্লোক ও মূল্যবান বাণী সমন্বিত ২৭টি স্তম্ভ, যা আমাদের শুভ চিন্তনের বিকাশ ও মহাজাগতিক সংযোগ সম্পর্কে ভাবিত হতে সাহায্য করবে। এই পবিত্র স্থান আগামী দিনে শিক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক, চিন্তন, ভক্তির এবং সাংস্কৃতিক অনুপ্রেরণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হবে। জ্ঞানের কোন শেষ নেই। যত জ্ঞান বাড়বে, তত মানুষ সমৃদ্ধ হবে। আগামীতে আমিও এখানে আসবো। আর আপনারাও সময় নিয়ে আসবেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় আরো বলেন, ত্রিপুরার এই পবিত্র ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির আধ্যাত্মিক আলোর এক দীপশিখা হয়ে উঠবে। ত্রিপুরা তথা সমগ্র দেশে অন্যান্য যেগুলি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারমধ্যে এটাও যেন সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই কামনা করি। উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, কসবা কালিবাড়ি, চতুর্দশ দেবতা মন্দির, চণ্ডী বাড়ি, অমরপুরের শান্তি কালীবাড়ির মতো এই নতুন মন্দিরটি আধ্যাত্মিক আরাধনার একটি নির্দশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। আমাদের রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটন নিয়ে সরকার অনেক কাজ করছে। এটাও ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি নতুন পালক হয়ে থাকবে। আমাদের ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক চেতনা ও বিকাশের একটা তীর্থভূমি। যুগে যুগে আমাদের দেশে মহামানবরা জ্ঞান ও চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে চিন্ময়া হরিহরা প্রতিষ্ঠানটি এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিছিয়ে পড়া অংশের শিশুদের ভবিষ্যত গড়ে তোলার মহৎ কাজটি করছে। ইতিমধ্যে ১০০ জন ছাত্রছাত্রী এখানে শিক্ষালাভ করছে। আমি আশা করি যে এই মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী দিনেও বহু মানুষের সেবায় নিরন্তর কাজ করে যাবে। রাজ্য সরকার সবসময়ই এই সেবা প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, পদ্মশ্রী সি আর রাঘবন, চিন্ময় মিশন চেন্নাইয়ের আচার্য স্বামী মিত্রানন্দ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্বামী বিজ্ঞানন্দ, রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী, চিন্ময় মিশনের সভাপতি অমিত রক্ষিত সহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *