আগরতলা: অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, ত্রিপুরা (মহাবিদ্যালয় শিক্ষা)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো রবিবার নজরুল কলাক্ষেত্র অডিটোরিয়ামে। শিক্ষকসমাজের স্বার্থরক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিকশিত ভারত গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভায় সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় শিক্ষকসমাজের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ২৭ দফা দাবি সনদও উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সরস্বতী বন্দনা ও মা সরস্বতীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে। এরপর সংগঠনের ত্রিপুরা প্রান্তের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস রায় চৌধুরী উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সদস্যদের স্বাগত জানান এবং ২০২৫-২৬ বর্ষের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন। সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ তপনজ্যোতি মালাকার একই বর্ষের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক নারায়ণ লাল গুপ্ত। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকসমাজের ঐক্য, কর্তব্যবোধ এবং রাষ্ট্রগঠনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
সংগঠনের মূলমন্ত্র— “রাষ্ট্রের হিতে শিক্ষা, শিক্ষার হিতে শিক্ষক এবং শিক্ষকের হিতে সমাজ”—এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি প্রাচীন ভারতীয় গুরুপরম্পরা ও শিক্ষার ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সারা দেশে ১৫ লক্ষেরও বেশি শিক্ষক এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ত্রিপুরা প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক নিখিল শঙ্কর নিওয়াসকর ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, জ্ঞান-পরম্পরা ও প্রাচীন প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শিক্ষকসমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।সংগঠনের ত্রিপুরা প্রান্তের সভাপতি তীর্থরাম রিয়াং তাঁর সভাপতির ভাষণে রাজ্যে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর্থিক ও চাকরিসংক্রান্ত স্বার্থ সুরক্ষায় সংগঠনের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), বাড়িভাড়া ভাতা (এইচআরএ) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তিনি ত্রিপুরা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। রাজ্যের শিক্ষকসমাজের কল্যাণ এবং শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে সংগঠনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বার্ষিক সাধারণ সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক নারায়ণ লাল গুপ্ত, ত্রিপুরা প্রান্তের সংগঠনমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস রায় চৌধুরী এবং সভাপতি তীর্থরাম রিয়াং। এই অধিবেশনে শিক্ষকসমাজের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে ২৭ দফা দাবি সনদ পেশ করেন দেবাশিস রায় চৌধুরী।
দ্বিতীয় অধিবেশনে অধ্যাপক নারায়ণ লাল গুপ্তের বৌদ্ধিক বক্তব্যে বিকশিত ভারত গঠন, ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতির গুরুত্ব বিশেষভাবে স্থান পায়। শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের আদর্শকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও ভাষার ভিন্নতা নির্বিশেষে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের বার্তাও দেন তিনি। জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রামঠাকুর মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মৌশম ভট্টাচার্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এরপর সমবেতভাবে জাতীয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘটে।
