আগরতলা।। আগরতলা–সাব্রুম জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক বিমান ধর (৮৫) এবং তাঁর নাতি রাহুল পাল (৩২)। বাগমা পুলিশ ফাঁড়ির অধীন কড়াইয়ামুড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও একটি প্রাইভেট মারুতি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় আরও প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সংবাদম হল থেকে শুরু করে উদয়পুরের বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আগরতলা–সাব্রুম জাতীয় সড়কের কড়াইয়ামুড়া এলাকায় TR03 1462 নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে WB24 Y4865 নম্বরের একটি প্রাইভেট মারুতি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের এতটাই তীব্র ছিল যে মারুতি গাড়িতে থাকা বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক বিমান ধর ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে থাকা চালক তথা তাঁর আপন মেয়ের ঘরের নাতি রাহুল পাল (৩২) গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গুরুতর আহত রাহুল পালকে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় আরও প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাতের প্রকৃতি ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যস্ত জাতীয় সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা তদন্তের বিষয়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশি তদন্তের পরই বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।অন্যদিকে, বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক বিমান ধরের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজ্যের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যজগতে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত এই বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্বের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিচিতজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। একই দুর্ঘটনায় তাঁর নাতি রাহুল পালের মৃত্যুও পরিবার-পরিজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
একই পরিবারের দুই প্রজন্মের মানুষের এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় শোকস্তব্ধ তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মহল। উদয়পুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক মহলে এই মৃত্যুসংবাদ গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।
