কৈলাসহর প্রতিনিধি:আসন্ন পুর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে কৈলাসহরে। রাজধানী আগরতলায় কংগ্রেস ও সিপিআইএমের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হলেও কৈলাসহরে সেই জোটের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানিয়ে দিলেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, ১৭টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে বামফ্রন্ট।সোমবার, ২ নভেম্বর, কৈলাসহর পুর পরিষদের ১৭টি ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা মহকুমাশাসক তথা রিটার্নিং অফিসার শান্তিময় দেববর্মার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে শহরের দলীয় কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের নিয়ে একটি সুসজ্জিত মিছিল বের করা হয়।
সিপিআইএম নেতা অঞ্জন রায়, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, বিশ্বরূপ গোস্বামী, নারী নেত্রী আনোয়ারা বেগম ও মুক্তা দাস-সহ অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন রাজপথ পরিক্রমা করে মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছায়। সেখানে একে একে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।১৭টি ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের প্রার্থীরা হলেন— এক নম্বর ওয়ার্ডে সাবিত্রী সরকার (দেব), দুই নম্বরে অমিতা ভট্টাচার্য (চক্রবর্তী), তিন নম্বরে ইব্রাহিম আলী, চার নম্বরে নীতীশ রঞ্জন দাস, পাঁচ নম্বরে শিউলী রানী দাস, ছয় নম্বরে তাপশ্রী পাল (ধর), সাত নম্বরে রিংকু দে (ধর), আট নম্বরে রবীন দত্ত চৌধুরী, নয় নম্বরে রাজীব বাসপার, দশ নম্বরে বিশু দাস, এগারো নম্বরে সাগর ভট্টাচার্য, বারো নম্বরে দেবশ্রী মালাকার, তেরো নম্বরে মৌসুমী দাস, চৌদ্দ নম্বরে রানী দাস, পনেরো নম্বরে প্রত্যজিৎ মালাকার (বাবলু), ষোলো নম্বরে স্বপ্না মালাকার (নমঃ) এবং সতেরো নম্বর ওয়ার্ডে বাণী সিনহা ও প্রভাকর সিনহা।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সিপিআইএম নেতা অঞ্জন রায় জানান, কৈলাসহর পুর পরিষদের সবকটি আসনেই বামফ্রন্ট প্রার্থী দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিগত বছরগুলিতে বিজেপি পরিচালিত পুর পরিষদে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শহরের মানুষ বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে অঞ্জন রায় স্পষ্ট জানান, জোট নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিপিআইএমের নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ৩০ অক্টোবর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর জেলা কংগ্রেস সভাপতি সিপিআইএমের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও বৈঠক করেননি।
ফলে আগরতলায় কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হলেও কৈলাসহরে সেই সমীকরণ বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। সব মিলিয়ে কৈলাসহর পুর পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এবার কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
