আগরতলা, ৭ অক্টোবর: রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১,০৬১ জন শিক্ষক নিয়োগ, আগরতলা পুরনিগমে (এএমসি) ২১৩টি নতুন পদ সৃষ্টি এবং গ্রুপ-বি, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের জন্য ত্রিপুরা স্টাফ সিলেকশন কমিশন গঠন।

মন্ত্রিসভার মুখপাত্র তথা খাদ্য, জনবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অধীনে নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৭০০ জন স্নাতক শিক্ষক (STGT) নিয়োগ করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের অধীনে আরও ৩৬১ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে ৭৫ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক এবং ২৮৬ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষক রয়েছেন।সুশান্ত চৌধুরী জানান, খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বেকার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এদিকে আগরতলা পুরনিগমে বিভিন্ন বিভাগে ২১৩টি পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিকল্পনা, অ্যাকাউন্টস, ইলেকট্রিক্যাল, সার্ভেয়িং, পরিদর্শন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পদ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।গ্রুপ-বি, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের জন্য ত্রিপুরা স্টাফ সিলেকশন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সুশান্ত চৌধুরী জানান, এই কমিশন নিজস্ব কাঠামো ও নিয়ম-কানুন অনুযায়ী একটি স্বশাসিত কমিশন হিসেবে কাজ করবে এবং বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা পরিচালনা করবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই রাজ্যে এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।শারদোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে রাজ্যের ৯.৯২ লক্ষ রেশন কার্ডধারী পরিবারকে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রতিটি পরিবারকে ১ কেজি চিনি, ২ কেজি ময়দা এবং ৫০০ গ্রাম সুজি দেওয়া হবে। এর জন্য প্রায় ৯৯২ মেট্রিক টন চিনি, ১,৯৮৪ মেট্রিক টন ময়দা এবং ২৪৩ মেট্রিক টন সুজির প্রয়োজন হবে। এই খাতে সরকারের আনুমানিক ব্যয় হবে ৯.৩৫ থেকে ৯.৮৫ কোটি টাকা।এছাড়াও এসসি ওয়েলফেয়ার সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বৈঠকে অংশগ্রহণের ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের বোর্ডিং হাউসের ছাত্রছাত্রীদের দৈনিক ভাতাও ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অধীনে আটটি লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) পদে নিয়োগের অনুমোদনও দিয়েছে মন্ত্রিসভা।সুশান্ত চৌধুরী আরও জানান, নিয়মিত চিনি সরবরাহে সাময়িক যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকি সংক্রান্ত কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা জড়িত রয়েছে। পুজোর পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *