আগরতলা: প্রতিটি ধর্মের মানুষই ত্রিপুরার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের অংশীদার। বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য এটাই দেশ ও রাজ্যের বৈশিষ্ট্য। সবকা সাথ, সবকা বিকাশের এটা একটা অন্যতম ভিত।
আজ প্রজ্ঞা ভবনে ত্রিপুরা সংখ্যালঘু সমবায় উন্নয়ন লিমিটেডের উদ্যোগে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ঋণ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক স্বনির্ভরতা, নারী স্বশক্তিকরণ ও তাদের নিরাপত্তা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। রাজ্য সরকারও সেই দিশায় কাজের মাধ্যমে রাজ্যে সমস্ত ধর্মীয় সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে চায়। মনে রাখা দরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে ভালো কাজই বিশ্বাস অর্জনের অন্যতম পথ। সরকার সংখ্যালঘুদের বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দেশগুলিতে নারীদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই তবে আজ আমাদের দেশের সংখ্যালঘু নারীদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন শিক্ষিত কন্যা মানেই একটি শক্তিশালী পরিবার। তাই সরকার সংখ্যালঘু নারীদের সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিটি ধর্মই সরকারের কাছে সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ। নানা ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য থাকলে দেশ তথা রাজ্যে সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে এবং তাতে নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার পথ প্রশস্ত হয়। একটা সরকারি সহায়তা বা ঋণ একটা মানুষের ভবিষ্যত ও তার পরিবারকে বদলে দিয়ে স্বনির্ভরতার পথে নিয়ে যেতে পারে। তাতে সমাজের অন্যদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। রাজ্যের সংখ্যালঘু অংশের মানুষের আরও দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩২২ কোটি টাকার নানা প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যালঘু অংশের সুবিধাভোগীদের হাতে উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা ক্ষেত্রের জন্য ঋণের চেক তুলে দেন। আজ সংখ্যালঘু সমবায় উন্নয়ন নিগমের পক্ষ থেকে ২৮ জন সংখ্যালঘু সুবিধাভোগীদের হাতে ৬৪ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানে এবছর রাজ্যের হজ যাত্রীদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং হজ যাত্রার উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ত্রিপুরা সংখ্যালঘু সমবায় উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান মহম্মদ জসীম উদ্দিন, ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলি, ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম, প্রাক্তন মন্ত্রী বিল্লাল মিয়া, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব নির্মল অধিকারী, সংখ্যালঘু সমবায় উন্নয়ন নিগমের জিএম সৌরভ আলহাসান।
