আগরতলা।। তামাকের ব্যবহার শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্যই এক নীরব ঘাতক। ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিল রোগসহ নানা অসংক্রামক ব্যাধির অন্যতম প্রধান কারণ তামাক।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভলান্টারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার উদ্যোগে আয়োজন করা হয় স্টেট লেভেল টোব্যাকো অ্যাওয়ারনেস ওয়ার্কশপ।কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী টিংকু রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্ণা দেববর্মা, ভলান্টারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার সভাপতি শ্রীলেখা রায়, সংস্থার ডিরেক্টর ড. সুজিত ঘোষ এবং ন্যাশনাল টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনটিসিপি) ত্রিপুরার স্টেট প্রোগ্রাম অফিসার শুক্লা দেববর্মা।
আলোচনায় বক্তারা তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরে বলেন, তামাক সেবনের ফলে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই নেশা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন।কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী টিংকু রায় এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ভলান্টারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই তামাকমুক্ত, সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত অতিথিরা তামাকমুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
