আগরতলা:ত্রিপুরার ছাত্রী ১৯ বছরে দিল্লির গুরগাঁওয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়।পাশাপাশি তার সাথে শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ পুলিশের মহা নির্দেশকের সাথে দেখা করতে চেয়ে ছিলেন কিন্তু আগে থেকে চিঠি না পাওয়া অব্দি তারা দেখা করতে পারবেন বলে না জানান।
তাই বাধ্য হয়ে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ মহা নির্দেশকের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি প্রেরণ করেন গণতান্ত্রিক নারী সমিতির নেত্রীরা। পরবর্তী সময়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে, নারী নেত্রী কৃষ্ণ রক্ষিত জানান,১৯ বছরের ত্রিপুরার এক ছাত্রী বিটেক পড়তে দিল্লি মহা নগরীর গুরগাঁওয়ে পড়াশুনা করতে গিয়েছিল। বিটেক পড়াকালীন তার সঙ্গে একটি ছেলের বন্ধুত্ব হয়। সেই বন্ধু ছেলেটি তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। তিন যাবত একটি ঘরে বন্দী করে রাখে।প্রথমত মানসিক ভাবে নির্যাতন করে। তারপর তাকে দৈহিক ভাবে আক্রমণ করে। তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর তার গোপন অঙ্গে অ্যাসিড ও স্যনিটাইজ জাতীয় পদার্থ ঢেলে দেওয়া হয়। এবং পরে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই অবস্থায় পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে দিল্লির সফদংজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে মেয়েটির মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। নারী নেত্রী আরো জানান, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির মা রাজ্যের আরক্ষা দপ্তরের কর্মরত।আজ দেশের নারীরা নিরা পত্তাহীনতায় ভুগছে। সংগঠনের তরফে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মহা নির্দেশকের সঙ্গে সকাল থেকে আলোচনা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল।
তারা বলেছেন, আগে থেকে চিঠি না দিলে দেখা করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী মোবাইল ফোন রিসিভ করেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মহা নির্দেশকের উদ্দেশ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে খোলা চিঠি প্রেরণ করা হলো। তিনি জানান রাজ্যের মুখ্য সচিব সেদিন সন্ধ্যা সাতটায় ভারতের গণতান্ত্রিক নারী সমিতির নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন। নারী সমিতি দাবি করছে নারীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। এবং যে মেয়েটির জীবন শুরুই হয়নি। তার উপর যে ভয়ংকর নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে।
মেয়েটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। তার পাশাপাশি অপরাধীকে কঠোরতম শাস্তি প্রদান করতে হবে। তিনি জানান, দেশের ও রাজ্যের সরকার যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।তার জন্যই সরকারকে এই খোলা চিঠি প্রেরণ করা হলো। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা স্বপ্না দত্ত, নারীর নেত্রী কৃষ্ণ মজুমদার সহ অন্যান্যরা।
