ওয়েব ডেস্ক জনদর্পন।। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে চিনের তৈরি অত্যাধুনিক J-10CE মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পথে এগোচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি চিন সফরেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অগাস্ট মাসের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রতিরক্ষা মহলের সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে ২৪টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে। এই যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কাছেও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই বিমানকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে।বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৪টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

এর অধিকাংশই বহু পুরনো মডেলের চীনা F-7 ও রাশিয়ার মিগ-২৯। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব অনুভব করছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। সেই কারণেই উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।J-10CE হল চিনের তৈরি একটি অত্যাধুনিক মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, যা আকাশে শত্রু বিমানের মোকাবিলা করার পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রভাগের লক্ষ্যবস্তুতেও নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। শক্তিশালী রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার ক্ষমতার কারণে এই বিমানকে চিনের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।এদিকে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির আধুনিকীকরণের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছাকাছি এই ঘাঁটির অবস্থান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লিও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত।তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের পূর্বাঞ্চলে ইতিমধ্যেই রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই-সহ একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহকে তাৎক্ষণিক সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা না হলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বেজিংয়ের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

imsges courtesy copy from Google images

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *