আগরতলা: আমাদের তিরঙ্গা সার্বভৌমত্ব, গৌরব, রাষ্ট্রনায়কত্ব, চেতনা, দেশপ্রেম এবং স্বার্থহীনতার প্রতীক। আর সেই কারণেই আমাদের জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

আজ আগরতলার ঐতিহ্যবাহী এমবিবি কলেজের রবীন্দ্র হলে আয়োজিত ‘হর ঘর তিরঙ্গা র‍্যালি’ এবং ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কারণে হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন এবং তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার ফলে অশান্তি, জাতিগত সংঘর্ষ এবং অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, নারীরা নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে। আমাদের এই ধরনের ঘটনা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। দেশভাগের কারণে অনেক মানুষকে চরম কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই ২০২১ সাল থেকে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত আমরা দেশকে নিয়ে ভাবি না, কিন্তু যখন কোনো বিদেশী শত্রু আমাদের আক্রমণ করে বা আমাদের দেশ কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়, তখনই শুধু আমরা দেশকে নিয়ে ভাবি এবং বুঝতে পারি আমাদের দেশ কী এবং আমাদের কী করা উচিত।

আমাদের কাছে দেশ সর্বাগ্রে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন আমাদের কাছে আহ্বান জানান, তখন আমরা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পালন করা শুরু করি এবং এটি এর পঞ্চম বছর। তিনি যখন এটি ঘোষণা করেছিলেন, তখন এক অভূতপূর্ব সাড়া দেখা গিয়েছিল এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনে মানুষকে উৎসাহিত করতেও সাহায্য করেছিল। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার সাথে সম্পর্ক ও আবেগকে মজবুত করতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যারা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন সেই বীরদের সম্মান জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এই ভাবাবেগ গড়ে তুলতে হবে। ১৪ এবং ১৫ আগস্ট রাতে যা ঘটেছিল, সেই কারণেই আমরা বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস পালন করি – বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ডাঃ সাহা আরও বলেন যে আজকের প্রজন্ম দেশভাগের সময় কিছু দেখেনি, তাই এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্যই বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস পালন করা হচ্ছে।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকা শুধু এক টুকরো কাপড় বা তিনটি রঙ নয়, আমাদের এর মহানতা ও গুরুত্ব বুঝতে হবে। প্রথমত, উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং নিজেদের শক্তিশালী করি, তবে রাজ্য ও দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আমাদের জাতীয় পতাকা একটি গর্বের বিষয় এবং আমাদের গর্বিত হতে হবে। আমাদের জাতীয় পতাকায় রয়েছে বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। তারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং দেশকে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন। আমাদের তিরঙ্গা সার্বভৌমত্ব, গৌরব, রাষ্ট্রনায়কত্ব, চেতনা, দেশপ্রেম এবং স্বার্থহীনতার প্রতীক। আর সেই কারণেই আমাদের জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’-এ পরিণত করার কথা বলছেন, আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন সমস্ত রাজ্য ‘বিকশিত রাজ্য’-এ পরিণত হবে। তার জন্য আমরা একটি রূপরেখা (Roadmap) তৈরি করেছি এবং দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছি।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *