আগরতলা।। সারা বিশ্বের সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় মঙ্গলবার রাজ্যও পালিত হলো বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী।এদিন ত্রিপুরা সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে নজরুল কলাক্ষেত্র প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান।

উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অরুণোদয় সাহা এবং কাউন্সিলর সুখময় সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। এদিন সকলে কবি নজরুল ইসলামের মর্মর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।অনুষ্ঠানে নজরুলের সাহিত্য ও বিদ্রোহী চেতনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। যৌবনে নজরুল ইসলাম মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করতেন এবং আযান দিয়ে মুসল্লিদের নামাজের জন্য আহ্বান করতেন।পরবর্তীকালে তিনি একটি নাট্যদলের সঙ্গে কাজ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনীতে তাঁর কার্যকাল শেষে তিনি কলকাতায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তাঁর সমাজ সংস্কার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল।নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক ও সঙ্গীত রচয়িতা।

তাঁর রচিত ও সুরারোপিত চার হাজারেরও বেশি গানের সংকলন ‘নজরুল গীতি’ নামে পরিচিত এবং এটি আজও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস ও ছোটগল্পও লিখেছেন। এগুলিতে প্রেম ও প্রণয় থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিকতা ও মুক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম তাঁকে বাংলায় ‘বিদ্রোহী কবি’ উপাধি এনে দেয়।তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সেখানে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে সম্মানিত।

কাজী নজরুল ইসলাম শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতা ও সাম্যের এক চিরন্তন কণ্ঠস্বর।” রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই নজরুল জয়ন্তী অনুষ্ঠানকে ঘিরে নজরুল কলাক্ষেত্র প্রাঙ্গণে তৈরি হয় শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *