আগরতলা: আগামীদিনে ত্রিপুরা থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হবে। সাব্রুম পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়েছে। জিরানিয়া থেকে বোধজংনগর শিল্পনগরী পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাধারঘাটস্থিত আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে আগরতলা – করিমগঞ্জ – আগরতলা মেমু ট্রেন সার্ভিসের ফ্ল্যাগ অফ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ আমাদের জন্য সত্যিই একটা আনন্দের দিন। ১৯৬৪ সালে আসামের কলকলিঘাট থেকে ত্রিপুরার ধর্মনগরে প্রথমবার একটা মিটার গেজ ট্রেন এসেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ এ কুমারঘাট পর্যন্ত মিটার গেজ ট্রেনের সম্প্রসারণ হয়েছে। তদানীন্তন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার উত্তর পূর্ব জোন ও ত্রিপুরার জন্য রেল প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০৮ এ আগরতলা পর্যন্ত মিটার গেজ ট্রেন পরিষেবা পৌঁছায়। এরপর ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্বোত্তরের উন্নয়নে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি গ্রহণ করেন। ক্রমান্বয়ে মিটার গেজ থেকে ব্রডগেজে উন্নীত হয় রেল পরিষেবা। আর এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। এখন ত্রিপুরা থেকে বাইরের রাজ্যে অনেক উন্নত মানের ট্রেন চলাচল করছে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানাই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগেও আমি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলি। সেসময় আমি ত্রিপুরার জন্য আরও ভালো ও উন্নত মানের রেল পরিষেবার দাবি জানাই। যথারীতি তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন। এরপরই আজকের এই মেমু ট্রেনের যাত্রা শুরু। এবিষয়ে আমাকে রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথমবারের মতো ত্রিপুরা থেকেই এই মেমু ট্রেনের যাত্রা হলো। এরআগে উত্তর পূর্ব জোনে এই ধরণের ট্রেন দেওয়া হয়নি। এই ট্রেনটি এখন থেকে করিমগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। সেই সঙ্গে ট্রেনটিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও এখান থেকে শুরু হবে।
ইলেকট্রিককে ব্যবহার করে যাত্রী ট্রেন এই প্রথম ত্রিপুরা থেকে মেমু ট্রেনের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং আজ একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হলো। এখন ত্রিপুরার শেষ সীমানা সাব্রুম পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা পৌঁছে গেছে। আগামীতে মৈত্রী সেতু চালু হবে। আখাউড়া পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিরিখে এই প্রকল্পগুলি চালু হবে। এতে দুই দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ২০২৬ সালে সমগ্র ত্রিপুরায় প্রায় ২৭১ কিলোমিটার রেলপথ চুরাইবাড়ি থেকে ইলেট্রিকের লাইন সম্পন্ন হয়েছে। এখন ত্রিপুরায় অনেকগুলি ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। এরমধ্যে দূরপাল্লার ট্রেন যেমন – তেজস, রাজধানী এক্সপ্রেস, ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস সহ ইত্যাদি এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও ইন্টারস্টেট অর্থাৎ আঞ্চলিক ট্রেন পরিষেবার মধ্যে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস আগরতলা থেকে মণিপুর যাচ্ছে। একটা শিলচর এক্সপ্রেস, আরেকটা নারেঙ্গি এক্সপ্রেস রয়েছে। ডেমু ট্রেনের মধ্যে আগরতলা – সাব্রুম, আগরতলা – ধর্মনগর প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল করছে। ইলেকট্রিক লাইন সম্পন্ন হওয়ায় আগামীদিনে এখান থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনও শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ট্রেনটা কোথায় রয়েছে সেটা যাত্রীদের অবগত করা খুবই জরুরি। ট্রেন পরিষেবা যত বাড়বে যাত্রী ভিড় তত কম হবে। আজকের এই মেমু ট্রেনে প্রায় ১২টি কোচে ৩,৬০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এই ট্রেনে সি সি ক্যামেরায় নজরদারি সহ জিপিএস ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নত মানের ব্রেকিং সিস্টেমও রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা রয়েছে এই ট্রেনে। ডাবল রেল লাইন করার জন্য কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে বলেছি আমি। এজন্য সার্ভে হয়ে গেছে। ডাবল লাইন হলে আরো বেশি ট্রেন এখানে আসবে। চন্দ্রনাথপুর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার রেলপথ সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইন করার প্রস্তাব আমাদের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে এবং আমি নিজেও বলে এসেছি।
ফাইন্যাল লোকেশন সার্ভে হয়েছে এবং ডিপিআর তৈরি হয়েছে। জিরানিয়া থেকে বোধজংনগর শিল্প নগরী পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ৪২ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। ফাইন্যাল লোকেশন সার্ভে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। আমরা জম্মু, পুরী, গয়া যাওয়ার জন্য নতুন এক্সপ্রেস ট্রেনের দাবি করেছি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, উত্তর পূর্ব রেলের ডিআরএম সমীর লোহানি, পরিবহন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আধিকারিকগণ।
