আগরতলা।। যে বিদ্যুৎ নিগমের একসময় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ছিল, বর্তমানে সেই সংস্থাই প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব সক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কেনার উপর নির্ভরতা বেড়েছে। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে। তিনি বিদ্যুৎ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। বিদ্যুৎ পরিষেবা, বিদ্যুৎ মাশুল অর্থাৎ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে এক হাত নিলেন প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা মানিক দে।
তিনি বলেন, একসময় ত্রিপুরা লোডশেডিংমুক্ত রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ বর্তমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে । ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। ঠছে সরকারের পক্ষ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করছে না।
মানিক বাবু বলেন , অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে রাজ্যের মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের আন্দোলনের ফলেই সরকার কিছুটা জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হযেছে, তা স্বাভাবিকভাবেই সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন , বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে রাজ্যে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।
বড়মুড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট এবং রুখিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ওই উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, এখন বড়মুড়া থেকে মাত্র প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন , বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব সক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কেনার উপর নির্ভরতা বেড়েনে। আর তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের উপর অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝা হিসেবে চাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন বিদ্যুৎ আইন ও নীতির সমালোচনা করে প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, এর ফলে ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমস্যার মুখে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘রেগুলেটরি গ্যাপ’ কমানোর যুক্তিকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের উপর অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিগমের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ছিল। বর্তমানে সেই সংস্থার প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
কীভাবে একটি সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা এই বিপুল আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়ল, তা নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। মানিক দে’র বক্তব্য, শুধু বিদ্যুৎ বিল কমানো বা সাময়িক সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট নয়।
রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিগমের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি করার দাবি তুলেন তিনি।
