আগরতলা: পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবতাবাদ’ ও ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শন আজও দেশ ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সমাজের অন্তিম প্রান্তে থাকা মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁকে উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল করাই ছিল পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান চিন্তা। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখেই সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার।

পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা সহ উপস্থিত অতিথিগণ। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মীনা রানী সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থা ও দর্শনের এক মহান ধারক ও বাহক। তাঁর প্রণীত ‘একাত্ম মানবতাবাদ’ মানুষের শরীর, মন, বুদ্ধি ও আত্মার সুষম বিকাশের কথা বলে। ব্যক্তি, সমাজ, প্রকৃতি ও পরমেশ্বরের মধ্যে পারস্পরিক ও আত্মিক সম্পর্কের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের একটি অংশ যদি দুর্বল বা অবহেলিত থাকে, তাহলে একটি দেশ কখনও শক্তিশালী হতে পারে না। শরীরের একটি অঙ্গে আঘাত লাগলে যেমন সমগ্র শরীর কষ্ট পায়, তেমনই সমাজের কোনও অংশের পিছিয়ে থাকা সমগ্র সমাজের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই সমাজের প্রতিটি অংশের সুষম ও সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন-এটাই ছিল পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ ভাবনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা দরিদ্র ও পিছিয়েপড়া মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই অন্ত্যোদয়ের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সেই ভাবনাকে সামনে রেখে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস’-এর মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্য, আবাসন ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও এই দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় সততা, মূল্যবোধ, আত্মনির্ভরতা ও দেশসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমেও তিনি স্বদেশী ভাবধারা ও জাতীয় চেতনাকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছিলেন। প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের কথাও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শনে উঠে এসেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির মধ্যেও প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার সেই ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জীবন, মূল্যবোধ ও চিন্তাধারা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। যাতে বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে প্রেরণা নিয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকগণ। উল্লেখ্য, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আজ সারা রাজ্যব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন পালিত হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *