আগরতলা।। আগামী ২২ তারিখ শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খারচি মেলা। এবারের খারচি পুজার বিশেষ দিক হলো এক পের মা কে নাম শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান। এই মেলার দিন গুলিতে একদিনে প্রায় এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হবে দর্শনার্থীদের।

আজ খয়েরপুর চৌদ্দ দেবতা বাড়ি সংলগ্ন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, মন্ডল সভাপতি রাজেশ ভৌমিক সহ আরো অন্যান্যরা।এদিন এই মেলা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী।বিধায়ক রতন চক্রবর্তী বলেন আগামী ২২ তারিখ মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধন হবে ঐতিহ্যবাহী খারচি মেলার । তিনি জানান খার্চি পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ যাবতীয় কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মেলাকে কেন্দ্র করে দুইবার প্রস্তুতি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে আরো একবার হয়তো প্রস্তুতি বৈঠক হবে। তিনি বলেন অন্যান্য বারের মত এবারও স্টল বন্টন হবে। এই মাসের 7 তারিখ থেকে দুইটি কাউন্টারে স্টল বিক্রির ফর্ম দেওয়া হবে। অতিরিক্ত ভিড় হলে আরো একটি কাউন্টার খোলা হবে। এবারও স্টল বিক্রির টাকা বৃদ্ধি করা হয়নি। তিনি জানান পূর্বে স্টল বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক অনুরোধ কিংবা দলীয় কর্মীদের জন্য সুপারিশ থাকতো।

কিন্তু এখন এ ধরনের সুপারিশের কোন সুযোগ থাকবে না। সবাইকে সাথে নিয়েই এই স্টল বিক্রি র কার্যক্রম সম্পন্ন হবে সম্পূর্ণ ভাগ্যের উপর। অর্থাৎ লটারির মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে। তিনি জানান পূর্বে মেলায় আগত সাধু সন্তদের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হতো এমনকি তারা কোন কোন দিন অনাহারেও থাকতো। কিন্তু ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাধু-সন্তদের জন্য বসার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের খাবার দাবারেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আর এর জন্য ব্যয়কৃত অর্থ মেলা কমিটি বহন করছে। তিনি বলেন মেলা কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একদিন কৃতি ছাত্র-ছাত্রী দিব্যাঙ্গ যারা রয়েছেন তাদেরকে সংবর্ধিত করা হবে। তিনি জানান মেলায় সসহায়ক মহিলা দলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে তাদের উৎপাদিত সামগ্রী পরিদর্শনের জন্য। মেলার শেষ দিনে রাজ্যের সাংসদগণ এবং মন্ত্রী মন্ডল এর উপস্থিতি তিনি কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান মাতাবাড়ির ন্যায় চতুর্দশ দেবতার মন্দিরও সংস্কার কার্য চলছে এবং খুব শীঘ্রই তাও সম্পন্ন হবে।

তিনি রাজ্যের জাতী উপজাতি সকল অংশের মানুষের উপস্থিতিতে খারচি একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *