আগরতলা।। ধৃত আদিত্য দাস শহরের এক মোবাইল দোকানের মালিক বলেও জানা গিয়েছে।। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধলাই জেলার এক উপজাতি যুবতীর সঙ্গে কিছুদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় অভিযুক্ত আদিত্য দাসের।
ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগ নিয়েই যুবতীকে দেখা করার প্রস্তাব দেয় আদিত্য এবং একটি দামি আইফোন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।নির্যাতিতার অভিযোগ, শনিবার সকালে ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে আগরতলায় আসেন তিনি। বাধারঘাট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত আদিত্য দাস বাইক নিয়ে সেখানে হাজির হয়। প্রথমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও পরে স্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় যুবতীকে। সেখানেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
বাধা দিলে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।অভিযোগ, হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় যুবতীর মোবাইল ফোনও নিজের কাছে রেখে দেয় অভিযুক্ত। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে।ঘটনার পর নির্যাতিতা পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানার ওসি ইন্সপেক্টর শিউলি দাসের নেতৃত্বে পুলিশ শনিবার গভীর রাতে লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি সংলগ্ন অভিযুক্তের মোবাইল দোকানে অভিযান চালিয়ে আদিত্য দাসকে গ্রেফতার করে।
পরে তাকে আমতলী থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি কমলপুর এলাকায়। শহরের সিদ্ধি আশ্রম ও লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ির সামনে তার দুটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পরিচিত সে। অভিযুক্ত বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে গাঙ্গাইল রোড এলাকায় বসবাস করত বলেও জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, থানায় আনার পর অভিযুক্ত নিজের প্রভাব প্রতিপত্তির কথা বলে পুলিশকে ভয় দেখানোরও চেষ্টা করে।
আমতলী থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(১) ও ৩৫১(২) ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।রবিবার ধৃত আদিত্য দাসকে আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ওসি ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস।
