আগরতলা: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে প্রান্তিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস অফিসাররা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরাই রাজ্য প্রশাসনের মেরুদণ্ড।

আজ আগরতলার আইজিএম হাসপাতাল সংলগ্ন নার্সিং কলেজ ও এজিডিসি কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়ামে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইজিএম হাসপাতাল ও ডেন্টাল কলেজের সাফাই কর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি টিসিএস অফিসাররা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান শিবিরের আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ কিংবা বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। এই ধরনের উদ্যোগ প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

              
রাজ্যের প্রশাসনিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সায়েন্স প্লেনারি সেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে টিসিএস অফিসারদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। পাশাপাশি, ডি-রেগুলেশন ও কমপ্লায়েন্স রিডাকশনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গত দুই বছর ধরে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। রাজ্যের এই সাফল্যের পেছনে আধিকারিকদের কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


অফিসারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পদমর্যাদা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা। শুধু আশ্বাস দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না, তাঁদের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করলেই প্রকৃত বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব। তিনি সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। সমাজের পরিশ্রমী কর্মীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তিনি সকলকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং উৎসবের দিনগুলিতে রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা টিসিএস অফিসারদের সাধারণ মানুষের সমস্যা বুঝতে এবং সরকারি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে সাহায্য করে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিস থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত ই-অফিস ব্যবস্থা বাস্তবায়নে টিসিএস অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতি এসেছে। রাজ্যের 'আমার সরকার' কর্মসূচির মাধ্যমে পঞ্চায়েত স্তরে মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অসীম সাহা, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, আইজিএম হাসপাতালের সুপার ডাঃ নির্মল সরকার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও উপস্থিত অতিথিরা কয়েকজন সাফাই কর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীর হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *