আগরতলা।। রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে গত কয়েকদিন আগে নোটিশ দিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সুবাদে উনাদের ২০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ঘোষণাও দিয়েছে।
তাই গত রবিবার দিন থেকে প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ। তাই সপ্তাহের প্রথম দিনেই জিবিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।আগে যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা অনেকেই ভীড়ের মধ্যে লাইন ধরাধরি এড়াতে প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে পরিষেবা নিয়ে আসত। যে সকল রোগীরা ও গর্ভবতী মহিলারা প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে পরিষেবা নিত যেহেতু প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ তারা অনেকেই বাধ্য হয়ে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালে ভিড় জমায় চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার জন্য। এই ভিড় সামলানোর মতো সঠিক পরিকাঠামো না থাকায় রোগীর ভিড় জমে যায় অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশী।
তাই চিকিৎসা পরিষেবা পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।একজন অসুস্থ রোগীর পক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। আমরা বাঙালি রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল জানান সরকার চিকিৎসা পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্দেশ্য করেছে যদি পরিকাঠামোর উন্নয়ন না করে তাহলে হিতে বিপরীত হবে। এই ধরনের পদক্ষেপ কার্যকরী করার জন্য যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল সরকার সেই পথে হাঁটেনি। তাই আমরা বাঙালী দল রোগী ও চিকিৎসকদের স্বার্থে কতগুলো দাবি পূরণের দাবি জানিয়েছে সরকারের কাছে।
১) রাজ্য জুড়ে অবিলম্বে চিকিৎসক নার্স সহ চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত টেকনিশিয়ান স্টাফ গুলোর শূন্যপদ গুলো পূরণ করতে হবে।২) উপচে পড়া ভিড়ে রোগীদের বসার জন্য এবং গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাখা লাগাতে হবে। ৩)পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।৪) যেহেতু রোগীদের চিকিৎসক দেখানোর জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হয় তার জন্য টিকিট কাউন্টারে সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মোবাইলে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কাউন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। ৫) বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়ে বেশীক্ষণ যাহাতে লাইনে দাঁড়িয়ে না থাকতে হয় আরো বেশি সংখ্যক চিকিৎসক কে পরিষেবা দেওয়ার জন্য নিয়োগ করতে হবে।
৬) চিকিৎসকদের উপর যাহাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে আট ঘণ্টা করে শিফটিং ডিউটির ব্যবস্থা করতে হবে। ৭) তৎসঙ্গে জুনিয়র ও পিজি র ছাত্র ছাত্রীদের কেও শিফটিং ডিউটির ব্যবস্থা করতে হবে আট ঘণ্টা পর পর। ৮)জিবি হাসপাতাল সহ রাজ্যের ব্লক স্তর পর্যন্ত হাসপাতাল গুলোর পরিকাঠামোর যে ঘাটতি রয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। ৯) শৌচাগার গুলো কে দ্রুত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।১০) সিটি স্ক্যান, এক্সরে, রক্ত পরীক্ষা,এম আর আই এ গুলো যাতে দ্রুত হয় সেগুলোর ব্যাবস্থা করতে হবে।
