আগরতলা: নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধিতা করে মহিলাদের প্রতি অবিচার করেছে বিরোধী দলগুলি। যা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। আগামীতে এর যোগ্য জবাব দেবেন মহিলারা।
মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ার প্রতিবাদে আজ আগরতলায় ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত জনআক্রোশ মহিলা পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। সবাই যেন বিধানসভার মধ্যে আমরা যে মোশন প্রস্তাব আনছি সেটাকে সমর্থন করে। আপনারা সবাই জানেন যে নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম নামে যে বিল ২০২৩ – সেটা আইনে পরিণত হয়েছিল। আইনে পরিণত হওয়ার পর অনেক সময় সংশোধনী আনতে হয়। সংশোধন করতে গিয়ে দেখা যায় যে কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন করতে হয়। এরজন্য এটা সংসদে আনা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে এই প্রয়োজন দেখা দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে এপ্রিল মাসে আবার সংসদে এই বিলটি সংশোধনের লক্ষ্যে পেশ করা হয়। এর প্রেক্ষাপটে মূল কারণ হচ্ছে এটাকে বাস্তবায়ন করতে হলে অনেক দেরিতে করতে হবে। সেখানে বলা হয়েছে যতক্ষণ ধরে আদমশুমারি শেষ না হবে ততক্ষণ এটা লাগু করা যাবে না। কারণ বর্তমানে আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলছে। সেই হিসেবে আরো অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তারজন্য সংশোধনীর জন্য আবার এই বিলটি আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইছেন সকলের বিস্তৃত আলোচনার মধ্য দিয়ে যেহেতু বিলটি পাস হয়েছিল তাই সেটিকে আরো কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে ২০১১ সালের সেন্সাসের উপর ভিত্তি করে কিছু পরিবর্তন করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বিরোধী জোট কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি এই বিলের বিরোধিতা করে।
ডাঃ সাহা বলেন, বিরোধী দলগুলির বিরোধিতার মাধ্যমে মহিলাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। যা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। আমাদের ভারতবর্ষের প্রায় ৫০% মহিলা। আর তাদের উপরই একটা আঘাত আনা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আজ মহিলাদের পক্ষ থেকে ধিক্কার ও আক্রোশ মিছিল করা হচ্ছে। আগামীদিনে এর যোগ্য জবাব দেবেন মহিলারা।
এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মিমি মজুমদার, বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়, বিধায়ক অন্তরা দেব সরকার সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
