আগরতলা: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের উত্তাপে তপ্ত গোটা ত্রিপুরা। কিন্তু ত্রিপুরাতে বসে সেই উত্তাপের আঁচ সামাল দেওয়া গেল না। বিজেপি-তিপ্রা মোথার জোট নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এতটাই গভীর যে, তার সমাধানের জন্য এবার আসর বসছে খোদ জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে। আর সেই হাইভোল্টেজ বৈঠক ডেকেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি ছুটে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা, তিপ্রা মোথার সুপ্রিমো মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন, রাজ্যের মন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা এবং বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। সঙ্গে গেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিবও।

শুক্রবার দিল্লিতে অমিত শাহের উপস্থিতিতে কেন্দ্র, রাজ্য ও তিপ্রা মোথার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিগত তিন-চার দিন ধরে ত্রিপুরার রাজনীতি ছিল সরগরম। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিপ্রা মোথার সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করার জন্য মরিয়া ছিল প্রদেশ বিজেপি।

সেই লক্ষ্যেই দু’দিনের সফরে ত্রিপুরায় এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোজক সম্বিৎ পাত্রা, সহ-সংযোজক রাজীব বব্বর ও সংগঠন মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু। মঙ্গলবার এবং বুধবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়।

বৈঠকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, রাজ্য প্রভারী রাজদীপ রায় সহ মন্ত্রিসভার সকল সদস্য ও বিধায়করা। কিন্তু এত চেষ্টার পরেও জোট নিয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়নি।

বুধবার যখন প্রদেশ কার্যালয়ে জোট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছিল, ঠিক তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিপ্রা মোথা সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী জনজাতিদের ভূমির অধিকার, ১২৫তম সংশোধনী সহ একাধিক দাবি বাস্তবায়িত না হলে বিজেপির সঙ্গে কোনো জোট নয়। ভিলেজ কমিটিতে মোথা একাই লড়বে। মহারাজার এই কঠোর অবস্থানের পরই বিজেপি শিবিরে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ত্রিপুরায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিষয়টি দিল্লিতে অমিত শাহকে জানান।

এরপরই অমিত শাহ তড়িঘড়ি দুই পক্ষকে দিল্লি তলব করেন। মন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দিল্লি যাচ্ছি তিপ্রাসাদের অধিকার রক্ষার জন্য যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, সেই বৈঠকে যোগ দিতে। যদি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি মোতাবেক আমাদের দাবি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়, তাহলেই জোট নিয়ে আলোচনা হবে।”

বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, “শুক্রবার কেন্দ্র, রাজ্য ও তিপ্রা মোথার মধ্যে বৈঠক হবে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অমিত শাহ, রাজ্যের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব এবং আমাদের পক্ষ থেকে মহারাজা, আমি এবং বৃষকেতু থাকব। তবে জনজাতিদের দাবি বাস্তবায়িত না হলে জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকই ঠিক করে দেবে ত্রিপুরার আগামী দিনের রাজনীতি। যদি বিজেপি-মোথা জোট হয়, তাহলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিরোধী সিপিএম-কংগ্রেস অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যাবে।

আর যদি জোট না হয় এবং দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তাহলে এডিসি এলাকায় ত্রিমুখী লড়াই হবে এবং তার ফায়দা তুলতে পারে বিরোধীরা। তাই শুক্রবারের দিল্লি বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা ত্রিপুরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *