আগরতলা :গোটা দেশ আজ বহুমুখী সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংকট হল কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।

আজ প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আহূত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একথা বলেন।তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস, বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এই বিপজ্জনক প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী সাংসদদের বহিষ্কার করে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা রক্ষার পুরনো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হতো, সেখান থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক রক্ষাকবচ দুর্বল হয়েছে।

আশিস বাবুর অভিযোগ, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বিজেপি-আরএসএসের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। গত সাড়ে বারো বছরে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি বিভিন্ন তথ্য ও ঘটনার মাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে ধরেছে। আদালত ও নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েও প্রত্যাশিত সুবিচার মেলেনি।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তে ডিজিটাল ব্যবস্থার অপব্যবহার করে প্রায় ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, পাশাপাশি বহু অবৈধ নাম অন্তর্ভুক্তির ঘটনাও সামনে এসেছে।

কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন আইনে নাগরিকদের যে অধিকার ছিল, তা একের পর এক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফর্ম-৬ সংক্রান্ত বিধান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।*কংগ্রেসের ৫ দফা দাবি:

১. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় তাঁকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।২. ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈষম্যমূলকভাবে পরিচালিত SIR অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।৩. তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।৪. ভোটে ব্যালট পেপারের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।৫. নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দিয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা বাতিল করে আগের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সভাপতি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সমাবেশ এবং ত্রিপুরায় ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচি বানচাল করতে নানা অপচেষ্টা চলছে। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে গড়ে ওঠা ঐক্যকে দুর্বল করতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, কালো টাকার অভিযোগ, বিদেশি অর্থায়নের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।তিনি জানান, আগামীকাল ৩০ অক্টোবর সকাল ১১টায় আগরতলার উদ্যান মার্কেটের সন্নিকটে সমবেত হয়ে INDIA জোটের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হবে। মিছিলটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত কার্যালয়ের উদ্দেশে যাবে এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হবে। তিনি রাজ্যের সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ ও রাজনৈতিক শক্তিকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি তিনি ত্রিপুরার ছাত্র-যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব, চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিক্ষোভ, এসপিও কর্মীদের বঞ্চনা, ফায়ার ব্রিগেডের নিয়োগপ্রার্থীদের অনিশ্চয়তা এবং টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রায় ছয় হাজার শূন্যপদ পূরণ না করার অভিযোগ তোলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *